নদিয়া: বৃহস্পতিবারই নদিয়া সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।(Mamata Banerjee) নদিয়ায় রাস্তা নির্মাণের মেগা প্রকল্পের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানে পৌঁছেই তিনি কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ ময়দানে জনসভায় যোগ দিলেন। সেই জনসভা থেকেই ফের এসআইআর নিয়ে প্রতিবাদের সুর চড়া করলেন মমতা। ‘অসমে কেন এসআইআর হবে না?’ এই জনসভা থেকেই কেন্দ্রকে একহাত নিয়ে প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
এদিনের জনসভা থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) বলেন, ‘২৯ পর্যন্ত ওদের দিল্লি চালাতে হবে না, তার আগেই যাবে’। এই মর্মে তিনি আরও বলেন, দিল্লি থেকে বিজেপি মার্কা কিছু লোককে পাঠানো হচ্ছে। ডিএম-দের মাথার উপর ছড়ি ঘোরানোর জন্য, আর বলছে দেড় কোটি নাম বাদ দিতে হবে। কালকে একটা খবর শুনলাম, জানি না সত্যি কিনা। যাঁরা ঠাকুরদা, ঠাকুমার নাম দিয়েছে, তাঁদের হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে। ডিএম-দের পাশে একটা করে কেন্দ্রের লোক বসিয়ে রাখা হবে। তুমি ডিএম-দের ভয় দেখাচ্ছো?’
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগে থেকেই তীব্র প্রতিবাদ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিকবার তার মুখে শোনা যায় এসআইআর ইস্যুতে কেন্দ্রের চক্রান্তের বিরোধিতার সুর। এবার নদিয়ার জনসভা থেকেও একই সুর তুলে কেন্দ্রকে তুলোধনা করে প্রশ্ন মমতার, ‘ওরা বলছে রোহিঙ্গা, কোথায় রোহিঙ্গা দেখাও। রোহিঙ্গা তো মণিপুর, নাগাল্যান্ড দিয়ে আসবে! সেখানে SIR হচ্ছে না, অসমে কেন এসআইআর হবে না?’
মোদী সরকারকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, ‘এত খিদে, ভোটের আগে SIR-এর নামে কী করছে। আধার কার্ড চলবে? নো স্যর। বিজেপির তাঁবেদারিতে চলবে? ইয়েস স্যর। চৈতন্যদেবকে মানে না, সংবিধান রচয়িতা আম্বেদকরকে মানে না। স্বামী বিবেকানন্দকে মানে না, রামকৃষ্ণদেবকে মানে না। বঙ্কিমচন্দ্রকে বলছে বঙ্কিমদা, যেন একসঙ্গে চা খাচ্ছে। মাস্টারদা সূর্যসেনকে বলছে মাস্টার সূর্যসেন। রাজ্যসভায় বলছে বন্দে মাতরম বলা যাবে না। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। আমি বলি পশ্চিমবঙ্গকে চেনো?’
এদিন নদিয়ায় রাস্তা নির্মাণের মেগা প্রকল্পের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘রাস্তা তৈরির টাকা বন্ধ, কেন্দ্রীয় সরকার দেয় না। ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনায় প্রথম ছিল পশ্চিমবঙ্গ। আদালতের নির্দেশ পেয়ে ৬ মাস ঘুমিয়ে ছিল কেন্দ্র। হঠাৎ একটা নির্দেশ পাঠিয়েছে। আরও অনেক নিয়ম-কানুন দিয়েছে। এটা আমাদের সঙ্গে চালাকির খেলা, আমরা তোমাদের টাকা চাই না। আমরা ১০০ দিনের মধ্যে ৭৫ দিনের কাজ করেছি।’




