দিঘা: পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্রসৈকত শহর দিঘার অন্যতম আকর্ষণ দিঘার জগন্নাথধামে এবার বড়সড় সাফল্যের মুখে মন্দির কর্তৃপক্ষ। ভোগ প্রসাদ পেতে চলেছে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা FSSAI-এর ‘ব্লিসফুল হাইজেনিক অফারিং টু গড’ শংসাপত্র। বর্তমানে এই প্রক্রিয়া শেষ ধাপে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই মিলতে পারে চূড়ান্ত অনুমোদন।
মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোগ প্রস্তুতির নমুনা, রান্নার মান, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতিমধ্যেই দিল্লির কেন্দ্রীয় দফতরে পাঠানো হয়েছে। এই নথির উপর ভিত্তি করেই নেওয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এক মাসের মধ্যেই মিলতে পারে এই গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
সম্প্রতি FSSAI-র প্রতিনিধিদল মন্দিরে এসে সরেজমিনে পরিদর্শন ও অডিট সম্পন্ন করে। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের উপস্থিতিতে মন্দিরের রান্নাঘর, ভোগ তৈরির প্রতিটি ধাপ, ব্যবহৃত উপকরণ এবং খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা খুঁটিয়ে দেখা হয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে এই দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ।
এই অডিটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় কয়েকটি মূল বিষয়ে ভোগ তৈরিতে ব্যবহৃত জলের বিশুদ্ধতা, রান্নাঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, খাদ্য সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি এবং রান্নার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় দফতরে পাঠানো হয়েছে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ডিসেম্বর মাস থেকেই মন্দিরে বসে ভোগ গ্রহণের ব্যবস্থা চালু হয়েছে।প্রতিদিন বহু ভক্ত কুপনের মাধ্যমে মন্দির প্রাঙ্গণে বসেই প্রসাদ গ্রহণ করছেন। এই উদ্যোগে ভক্তদের সাড়া ইতিবাচক। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক ভক্তদের জন্য এই পরিষেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
এর আগে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের তরফে একটি প্রি-অডিট সম্পন্ন হয়েছিল। সেই সময় রান্নার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য প্রস্তুতির বিভিন্ন নিয়মাবলি সম্পর্কে সচেতন করা হয়। এই প্রশিক্ষণের ফলেই বর্তমানে ভোগ প্রস্তুতির মান অনেক উন্নত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।




