লখনউ : কেটে যাচ্ছে দিনের পর দিন। ক্রমশ দৃঢ় হচ্ছে প্রতিবাদের সুর। অথচ দেশের বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে(Uttar Pradesh) নির্যাতনের হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। এককথায়, মাতৃভাষায় কথা বলাই যেন অভিশাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে মুর্শিদাবাদ-সহ বাংলার বেশ কয়েকটি জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে! বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁদের উপর নেমে আসছে অকথ্য নিপীড়ন। চলছে পুশব্যাক বা থানায় আটকে রেখে হেনস্থা। এবার উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার নগর থানায় বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের ১৮ জনকে তিনদিন ধরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠল। তাঁরা প্রত্যেকেই পেশায় ভ্রাম্যমাণ পথব্যবসায়ী বা ফেরিওয়ালা।
জানা গিয়েছে, বহরমপুর থানার হালসাপাড়া এলাকার বাসিন্দা হজরত শেখ, শক্তিপুর থানার কাজিপাড়া এলাকার সাগর শেখ, লাহারপাড়া এলাকার আনিজুল শেখ, চৌরীগাছার কালিমউদ্দিন শেখ-সহ সালার থানা এলাকার মোট ১৮ জন ফেরিওয়ালা বিগত ২০-২৫ বছর ধরে ফেরি করে বেড়াচ্ছিলেন উত্তরপ্রদেশের(Uttar Pradesh) বিভিন্ন জেলায়। তিনদিন আগে ওই ফেরিওয়ালাদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড দেখার পরেও তাঁদের আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। থানায় ওই ফেরিওয়ালাদের নিজেদের রান্না নিজেদেরই করে খেতে হচ্ছে। বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা।
সূত্রের খবর, আটক শ্রমিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একজন তার মধ্যেই অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল লুকিয়ে রেখে তাঁদের আবেদনের ভিডিও রেকর্ড করে সংবাদমাধ্যমকে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে শক্তিপুর থানার হালসানা পাড়ার এক ফেরিওয়ালা বলেন, ‘‘আমাদের বৈধ আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এমনকী প্যান কার্ড দেখানো সত্ত্বেও আমাদের আটকে রাখা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ বলছে আমরা নাকি বাংলাদেশি! অথচ আমরা ভারতীয়। গত তিনদিন ধরে আমাদের শুধু শুধু আটকে রেখেছে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ।’’
বহরমপুর থানার রাঙামাটি চাঁদপাড়া এলাকার এক ফেরিওয়ালা জানান, ‘‘আমরা বিগত কয়েক বছর ধরে উত্তরপ্রদেশের নানা প্রান্তে বাড়ি বাড়ি মাথার চুল কিনে থাকি। হঠাৎ করে আমরা বাংলাদেশি হয়ে গেলাম! আমাদের কিছুতেই ছাড়া হচ্ছে না। নিজেদেরই রান্না করে খেতে হচ্ছে। ঠিকমতো দু’বেলা খাবার জুটছে না।’’ আর একজনের কথায়, ‘‘১৮ জনের মধ্যে আমাদের ৫ জনকে দু’ঘণ্টার জন্য রান্না করতে বলা হচ্ছে। আমরা কষ্ট করে ভাত, তরকারি রান্না করছি। এভাবে কতদিন আটকে থাকব জানি না।’’
বাথরুমে লুকিয়ে মোবাইল থেকে নিজের ভিডিও তুলে পাঠিয়েছেন এক ফেরিওয়ালা। তিনি বলেন, ‘‘আমরা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। ভারতের নাগরিক। আমাদের সমস্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আটকে রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের বাঁচান।’’ এদিকে ১৮ জনের মোবাইল কেড়ে নিলেও একজনের কাছে লুকিয়ে রাখা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল থেকেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের নজর এড়িয়ে এ রাজ্যের প্রশাসনের কাছে ভিডিও পাঠিয়েছেন তাঁরা।
স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্যমঞ্চের রাজ্য সম্পাদক আসিফ ফারুক। ‘‘ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে ১৮ জন ফেরিওয়ালাকে আটকে রেখেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। বিষয়টি মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার, জেলাশাসক এবং শ্রমদফতরের আধিকারিককে জানানো হয়েছে। ওই ফেরিওয়ালাদের নিঃশর্তে মুক্তির আবেদন করছি’’, স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।




