প্রতিবেদন : গভীর সংকটের মুখে ভারতীয় বস্ত্রশিল্প।(Textile Industry) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেদেশে ভারতের বস্ত্র ও পোশাক রফতানির উপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর দেশের রফতানি শিল্প কার্যত তিমিরে। শ্রমনির্ভর এই শিল্পে ইতিমধ্যেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। যার জেরে কর্মহীনতার মুখে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। এমতাবস্থায় রফতানিকারীরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন বাজার টিকিয়ে রাখতে উৎপাদন কার্যক্রমের শেষ ধাপ প্রতিবেশী দেশগুলিতে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ইথিওপিয়া, মিশর, ইন্দোনেশিয়া এবং জর্ডনের মতো দেশগুলিতে উৎপাদন কার্যক্রমের শেষ ধাপ স্থানান্তরিত করার কথা বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে ভারতীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। যা আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলিকে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিচ্ছে।(Textile Industry) রফতানিকারীরা ইতিমধ্যে শীতকালীন পণ্যের চালান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিলেও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন পরবর্তী সময়ের জন্য নেওয়া পণ্যের অর্ডারগুলি গুরুতর চাপে পড়েছে। সিটিএ অ্যাপারেলসের চেয়ারম্যান মুকেশ কানসাল জানিয়েছেন, কিছু ক্রেতা শুল্ক বৃদ্ধিজনিত খরচ মেটাতে ৫% থেকে ২০% পর্যন্ত অতিরিক্ত ছাড়ের দাবি করছেন। এর ফলে আরও কমে যাচ্ছে রফতানিকারীদের মুনাফা।
পাশাপাশি অ্যাপারেল এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল মিথিলেশ্বর ঠাকুর বলেছেন, বস্ত্র রফতানিকারীরা আশা করছেন যে আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। ভারতের ওপর আরোপিত এই ৫০ শতাংশ শুল্ক এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে বিশেষত শ্রম-নিবিড় খাতগুলিতে পণ্যের মূল্য এবং প্রতিযোগিতা বিপুল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তুলার ওপর আমদানি শুল্ক মকুব করেছে। এদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বড় ধরনের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত আটকে রেখেছে অনেক প্রতিষ্ঠান।
এপ্রসঙ্গে ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা কর্পোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্তা জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত বাহ্যিক পরিবেশ ভারতের অনুকূলে না আসে, ততক্ষণ অবধি কোম্পানিগুলি অপেক্ষা করার নীতি অবলম্বন করবে। কারখানাগুলিতে কাজের সময় কমে যাওয়ায় এবং অর্ডার বাতিল হওয়ায় শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। বুধবার এই শুল্ক আরোপের জেরে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটে। বাজার বিশ্লেষকরা এই শুল্ককেই বাজারের ওপর সবচেয়ে বড় বোঝা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যদিও দুর্বল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের মতো অন্যান্য কারণও এর পেছনে কাজ করছে। ভারতীয় কর্তারা এই পরিস্থিতিকে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের একটি সাময়িক টানাপোড়েন হিসেবে দেখছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক কর্তা এটিকে ‘দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের একটি অস্থায়ী পর্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জানিয়েছেন, বাণিজ্য চুক্তি ফলপ্রসূ করতে যোগাযোগ চ্যানেলগুলি খোলা রয়েছে। চাপে পড়ে সমস্যা সুরাহার উপায় খুঁজছে উভয়পক্ষ।





