তেহরান: ইজরায়েল-ইরান সংঘাত চরম আকার নিয়েছে৷ এর মধ্যেই ইজরায়েলকে সমর্থন করে আমেরিকা ইরানকে হুঁশিয়ারি দিতে ছাড়েনি। তবে এহেন পরিস্থিতিতে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। এবার রাশিয়ার মতোই তেহরানের রক্ষাকর্তা হয়ে ময়দানে নেমেছে বেজিংও!(Iran Israel War 2025)
ইরানের দিকে পাঁচটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান চিন থেকে উড়ে গিয়েছে। আর তারপরেই ইরানকে চিনের সমর্থনের জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। তেহরানের বহু পুরনো বন্ধু চিন তবে কী এখন ময়দানে নেমেছে রক্ষাকর্তা হয়ে! তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
Read More: পর্যটনে নবজোয়ার! প্রতি বছরই প্রিয় ‘ডেস্টিনেশন’ বাংলায় আসছেন লক্ষ লক্ষ বিদেশি পর্যটক
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ়’ এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিনের ওই বোয়িং বিমানগুলি আদতে লুক্সেমবার্গ যাচ্ছিল। কিন্তু সে ক্ষেত্রে বিমানগুলিকে ইউরোপের আকাশসীমায় দেখতে পাওয়ার কথা। তেমনটা ঘটেনি বলে জানিয়েছে ‘ফক্স নিউজ়’। আর এখানেই ঘনীভূত হয়েছে রহস্য।(Iran Israel War 2025)
ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানগুলি উত্তর চিন থেকে উড়ে কাজ়াখস্তানের দিকে যায়। তার পর দক্ষিণে বাঁক নিয়ে উজ়বেকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তান পৌঁছোয়। রেডার-তথ্য বলছে, সেই সময় বিমানগুলির অভিমুখ ছিল ইরানের দিকে। তার পর অবশ্য রেডারে সেগুলির গতিবিধি ধরা পড়েনি। বিশ্বে বিমান চলাচলের উপর নজরদারি চালানো সংস্থা ‘ফ্লাইটরেডার২৪’-কে উদ্ধৃত করে ‘ফক্স নিউজ’ এই তথ্যই সামনে এনেছে।
LInk: https://x.com/ekhonkhobor18/status/1936011832151650628
এই তথ্য সামনে আসতেই ভূরাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, বিমানগুলি ইরানে পাঠিয়ে আদতে তেহরানের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে বেজিং। যদিও প্রকাশ্যে এই বিষয়ে মুখ খোলেনি চিন কিংবা উড়ান সংস্থা। বিমানগুলি ইরানেই রয়েছে, না কি কিছু সময়ের জন্য অবতরণ করে অন্যত্র উড়ে গিয়েছে, তা-ও এখনও স্পষ্ট নয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যটি জানিয়েছে, এই ধরনের বিমান সাধারণত যাত্রী পরিবহণ কিংবা পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। বিমানগুলি যুদ্ধবিমান নয়। তবে এই ধরনের বিমানে খাদ্য, অস্ত্র কিংবা অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী চিন ইরানে পাঠাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। আবার, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ বিমানগুলিকে ‘রহস্যময়’ বলে অভিহিত করেছে।
এমনিতেই শুল্কযুদ্ধের কারণে আমেরিকার সঙ্গে দ্বন্দ্ব বেড়েছে চিনের। তার মধ্যে ইজরায়েলকে মার্কিন মুলুকের সমর্থন। সেখানে পুরনো বন্ধু ইরানকে চিনের সমর্থন অস্বাভাবিক নয় বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
পাশাপাশি, চিন যে গ্যাস এবং তেল আমদানি করে, তার ৪৩ শতাংশ আসে পশ্চিম এশিয়া, মূলত ইরান থেকে। সে দিক থেকে দেখতে গেলে ইরান চিনের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই সমস্ত বিষয়ে নজর রেখেই তেহরানকে চিনের সমর্থন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।




