নয়াদিল্লি: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সোমবার গভীর রাতে বিবেচনাধীন ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন তালিকা অনুযায়ী, মোট ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম বাদ পড়েছিল। এরপর আপত্তি ও পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সেই বিবেচনাধীন তালিকা থেকে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জন ভোটারের নাম ফের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে এখনও বহু মানুষ ভোটার তালিকার বাইরে রয়ে গিয়েছেন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৬০ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৫ জন ভোটার বিবেচনাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ৫৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১২ জনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বাকি ২২,১৬৩ জনের ক্ষেত্রে ই-স্বাক্ষরের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাম পুনরুদ্ধার না হলে প্রথম দফার ভোটে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হবে না। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় পুরো প্রক্রিয়াটি ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। একই দিনে প্রথম দফার মনোনয়ন জমার শেষ দিন থাকায় রাত ১২টার পর ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হয়ে যায়। ফলে ওই সময়ের মধ্যে যাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে, তাঁরাই প্রথম দফায় ভোট দিতে পারবেন।
জেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদে আগে থেকেই ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮২২ জনের নাম বাদ পড়েছিল। উত্তর ২৪ পরগনায় বাদ পড়েছেন ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ জন। মালদা জেলায় বাদ পড়েছে ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৩০ জন ভোটারের নাম। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে, সীমান্তবর্তী ও ঘনবসতিপূর্ণ জেলাগুলিতে এই তালিকা সংশোধনের প্রভাব বেশি পড়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, “সোমবার রাত ১২টার মধ্যে যাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের অনুমোদন পেয়েছে, তাঁরা প্রথম দফায় ভোট দিতে পারবেন।” তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর থাকবে। আগামী ৯ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত যাঁদের নাম পুনরুদ্ধার হবে, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় ভোট দিতে পারবেন। এরপর তালিকা ‘ফ্রিজ’ হয়ে গেলে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া ভোটাররা সেই দফায় ভোট দিতে পারবেন না।
এই পরিস্থিতিতে বহু ভোটারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা এখন ট্রাইব্যুনালের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। যদিও আইনি পথ খোলা রয়েছে, তবুও সময়সীমা এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ভোটার তালিকা সংশোধন যে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।




