কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এই আবহে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের নাম যাচাইয়ের পর বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ায় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ভোটাধিকার নিয়ে।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে সরব হয়ে ২০২৬-এর নির্বাচনকে “দুই আরসি-র লড়াই” বলে অভিহিত করেছেন।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের নথি যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে।
সোমবার রাতেই প্রথম দফার ভোটার তালিকা চূড়ান্ত বা ‘ফ্রিজ’ করা হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই সংখ্যাটা অত্যন্ত বড় হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এই নামগুলি পুনরায় তালিকায় যুক্ত হওয়া কঠিন হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে লেখেন, “২০২৬-এর লড়াই আসলে দুই আরসি-র লড়াই।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একদিকে রয়েছে বিজেপির “রিমোর্ট কন্ট্রল”, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের “রিপোর্ট কার্ড”।
অভিষেকের অভিযোগ, বিজেপির ‘রিমোট কন্ট্রোল’-এর মাধ্যমে বাংলার প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখা হচ্ছে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থার অপব্যবহার, সাম্প্রদায়িক বিভাজন এবং বাঙালিদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো বিষয়গুলিরও সমালোচনা করেন।
অন্যদিকে, তৃণমূলের ‘রিপোর্ট কার্ড’-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে রাজ্যে যে উন্নয়ন হয়েছে, সেটাই হবে এই নির্বাচনের মূল ইস্যু। তাঁর কথায়, এই রিপোর্ট কার্ডে রয়েছে কাজের হিসেব, প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং মানুষের জীবনে পরিবর্তনের বাস্তব ছবি। কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়াই এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের জনসভা ও রোড শো-তে বিপুল জনসমাগমের কথা উল্লেখ করে অভিষেক জানান, মানুষের সমর্থন স্পষ্টভাবে তাদের পক্ষেই রয়েছে। জলঙ্গি, ডোমকল, হরিশ্চন্দ্রপুর, চাঁচল ও শিলিগুড়ির সভাগুলিতে মানুষের উপস্থিতিকে তিনি জনমতের প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
তবে ভোটার তালিকা থেকে এত বড় সংখ্যায় নাম বাদ পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিরোধী দলগুলি এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।




