কলকাতা: মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে এক বেপরোয়া সড়ক দুর্ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, বিজেপি বিধায়ক প্রীতম লোধির ছেলে দীনেশ দ্রুতগতির এসইউভি চালিয়ে রাস্তায় থাকা পথচারী ও বাইক আরোহীদের ধাক্কা দেন। এই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন গুরুতর জখম হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার পর অভিযুক্তের আচরণ ঘিরে আরও ক্ষোভ ছড়ায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি আহতদের সাহায্য না করে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা তাঁকে ঘিরে ধরলে তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে জানান, তাঁর বাবা একজন প্রভাবশালী বিধায়ক। এমনকি গুরুতর অভিযোগও সহজেই সামলে নেওয়া সম্ভব বলেও দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার ভিডিও সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও পোস্ট করে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি লেখেন, “বিজেপি নেতারা বিশ্বাস করেন যে তাঁরা আইনের ঊর্ধ্বে। এবং তাঁরা তাঁদের সন্তানদেরও একই বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে বিজেপি বিধায়ক প্রীতম লোধির ছেলে গাড়ি দিয়ে ৫ জনকে চাপা দেন। উল্টে দ্রুত রাস্তা থেকে সরে না যাওয়ার জন্য আহতদেরই দোষারোপ করেন। তিনি পথচারীদের ভিডিও করা বন্ধ করতে হুমকি দেন। এবং তারপর অবিশ্বাস্য ঔদ্ধত্যে পুলিশকে বলেন যে, তাঁর বাবা এমন একজন বিধায়ক যিনি একটি খুনও সামলাতে পারেন।”
এরপরে বিজেপি নেতাদের অতীত স্মরণ করিয়ে অভিষেক লেখেন, “এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। লখিমপুর খেরিতে, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্র তেনির ছেলে ঠাণ্ডা মাথায় গাড়ি চাপা দিয়ে ৫ জনকে হত্যা করেন। মন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার পদ ধরে রেখেছিলেন। এই ধরনের ধারাবাহিক ঘটনা কোনও কাকতালীয় ব্যাপার নয়। এটাই সংস্কৃতি। বিজেপির সংস্কৃতি। যেখানে নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় মানুষের জীবনহানিও ‘সঠিক’ ব্যক্তিকে ফোন করে সমাধান করা যায়। এটাই বিজেপির ডিএনএ।”
এই ঘটনার ভিডিও পোস্ট করে তৃণমূলের তরফের সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আক্রমণ করা হয়। শাসক দল লেখে, “এটাই বিজেপির আসল ‘রামরাজ্য’, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনের কোনও দাম নেই। ধিক্কার জানাই এই ন্যক্কারজনক মানসিকতাকে!” অন্যদিকে, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, প্রাথমিক এফআইআরে অভিযুক্তের নাম ছিল না, যা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




