উত্তরপ্রদেশ: এক বিয়েবাড়িতে বারবার রসগোল্লা নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ক্যাটারিং কর্মীর রাগের জেরে গুরুতরভাবে দগ্ধ হল ১১ বছরের এক নাবালক। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলায়। বর্তমানে সে লখনউয়ের হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
আহত শিশুটির নাম চমন। স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে সে। খুব ছোট বয়সেই মাকে হারিয়েছে, তারপর থেকে দিদার কাছেই তার লালন-পালন। বুধবার দিদার সঙ্গে এক আত্মীয়ের বিয়েবাড়িতে যোগ দিতে গিয়েছিল চমন। সেখানে অন্য বাচ্চাদের মতোই খাবারের স্টলে গিয়ে মিষ্টি খাচ্ছিল সে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, চমন বারবার রসগোল্লা নিচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই এক ক্যাটারিং কর্মী তাকে বাধা দেয়। কিন্তু শিশুসুলভ স্বভাবের কারণে সে আবারও মিষ্টি নিতে গেলে ওই কর্মী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, রাগের বশে সে চমনকে ধরে তন্দুর ওভেনের সামনে নিয়ে যায়।
এরপর ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শিশুটিকে তুলতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় সে সরাসরি জ্বলন্ত তন্দুরের ভিতরে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে চিৎকারে চারদিক স্তব্ধ হয়ে যায়। উপস্থিত অতিথিরা দ্রুত ছুটে এসে তাকে তন্দুর থেকে উদ্ধার করেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় চমনকে। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে লখনউ মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার মুখ থেকে কোমর পর্যন্ত শরীরের বড় অংশ পুড়ে গিয়েছে এবং অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ক্যাটারিং কর্মী পলাতক। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি শিশুর সঙ্গে এমন আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।
একটি ছোট্ট শিশুর সামান্য আচরণকে কেন্দ্র করে এমন ভয়াবহ পরিণতি এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সকলের মনে। মানবিকতার অভাব এবং শিশু সুরক্ষার ঘাটতি আবারও সামনে এল এই ঘটনায়। অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতারি এবং কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন সকলেই।




