ত্রিপুরা: ত্রিপুরার স্বশাসিত জেলা পরিষদ বা ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল নির্বাচনের ফল প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ২৮টি আসনের মধ্যে মাত্র ৫টিতে এগিয়ে থেকে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে গেরুয়া শিবির। এপ্রসঙ্গে বিজেপি তীব্র কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
অন্যদিকে, তিপ্রা মোথা ২১টি আসনে এগিয়ে থেকে এই নির্বাচনে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলে এই ফলাফল যে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে, তা নিয়ে একমত বিশেষজ্ঞরা। এই নির্বাচনে বিজেপি একাই লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয়। আগে আইপিএফটি-র সঙ্গে জোট থাকলেও, আসন সমঝোতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই জোট ভেঙে যায়। ফলে এককভাবে নির্বাচনে লড়াই করে বিজেপি, যার প্রভাব ফলাফলে স্পষ্ট।
অন্যদিকে, সিপিএম ও কংগ্রেস এই নির্বাচনে কার্যত প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। কোনও আসনেই তারা এগিয়ে থাকতে পারেনি। ফলে ত্রিপুরার রাজনীতিতে নতুন করে শক্তির ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে অশান্তির অভিযোগও কম ছিল না। ভোটের দিন বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ, বোমাবাজি এবং গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে তিপ্রা মোথা ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে। পাশাপাশি, বিজেপির বিরুদ্ধে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ ওঠে, যদিও দল তা নস্যাৎ করেছে।
এই ফলাফল নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “বাংলায় ঘুরে বড় বড় কথা বলছেন বিজেপি নেতারা। ওদিকে ত্রিপুরাতে স্বশাসিত জেলা পরিষদ ভোটে আজ ফল বেরোচ্ছে- বিজেপি ধরাশায়ী। ২৮ আসনে এখনও এগিয়ে মাত্র ৫; মহারাজা প্রদ্যোতমানিক্যর দল এগিয়ে ২১টিতে। সিপিএম এবং কংগ্রেস বিধ্বস্ত। দেখা যাক চূড়ান্ত ফল কী হয়। ওওও বিজেপি, আগে নিজের ঘর সামলা, পরে ভাববি বাংলা।”




