নয়াদিল্লি: দিল্লি-অমৃতসর এক্সপ্রেসের এক যাত্রী সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। ভিডিওতে তিনি জানান, ট্রেনে চা, কফি এবং খাবারের দাম দ্বিগুণ নেওয়া হচ্ছে। যেখানে ৫ টাকার চা-কফি ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ১০ টাকার চা-কফি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। এমনকি ১৪ টাকার বোতলজাত জলও বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়।
যাত্রী ভিডিওতে বলেন, প্রথমে তিনি নিয়ম মেনে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগের তালিকায় তিনি বিরিয়ানির কথাও উল্লেখ করেছেন। কিন্তু বিরিয়ানির সঙ্গে দেওয়ার কথা দই, ন্যাপকিন ও স্যালাড কিছুই দেওয়া হয়নি। অতিরিক্ত অর্থ ফেরত চাইলে তাঁকে ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ম্যানেজার ফোনে জানান, তিনি ট্রেনে নেই।
যাত্রী ভিডিওতে আরও বলেন, “অনেকেই এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু এটি শুধুমাত্র একটি ট্রিপের সমস্যা নয়, এটি জাতীয় স্তরের সমস্যা। আমাদের সকলেরই এর বিরুদ্ধে কণ্ঠ উঁচু করা উচিত। যদি কেউ মনে করেন, এটি গরিবদের জন্য ক্ষতিকর নয়, তবে হিসাবটা দেখুন। প্রতিটি কোচ, প্রতিটি যাত্রী এবং প্রতিটি যাত্রাপথ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত ১০০ টাকা… এক ট্রিপেই এটি হাজার হাজার টাকায় পরিণত হয়। সাধারণ শ্রেণি বা সেকেন্ড সিটিং যাত্রীদের জন্য এটি শুধু অতিরিক্ত দাম নয়, এটি তাদের খাবার পাবেন কি না সেই বিষয়েও প্রভাব ফেলে।”
এই ঘটনার পর আইআরসিটিসি জানিয়েছে যে সংশ্লিষ্ট রেলকর্মী ও প্যান্ট্রি কারের ম্যানেজারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের জন্য কঠোর নজরদারি চালানো হবে এবং যাত্রীদের অধিকার রক্ষা করা হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। শুধু অভিযোগ করা যথেষ্ট নয়, বরং আইআরসিটিসি কর্তৃপক্ষের দিকে সরাসরি নজর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত, এই ঘটনার মাধ্যমে পরিষ্কার হয়েছে যে ট্রেনের খাবারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যাত্রীদের উচিত, এমন পরিস্থিতিতে লাজুক না হয়ে অবিলম্বে অভিযোগ করা। কারণ প্রতিটি অভিযোগ ভবিষ্যতে অন্য যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং অনৈতিক ব্যবসায়ীদের হাত থেকে সুরক্ষা দেবে।




