পানিহাটি: বৃহস্পতিবার জনসভা থেকে এবার জয় বাংলার ইতিহাস তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পানিহাটি উষুমপুর বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গন থেকে মমতা বলে , “জানেন জয় বাংলা স্লোগানটা আমি কবে দিয়েছিলাম?” এই মর্মে অর্জুন সিংকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২০১৯ সালে যখন আপনাদের এখানে একটা গুন্ডা জিতেছিল ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে তারপর দাঙ্গা করে করে সারা এলাকা তছনছ করেছে”।
এদিনের জনসভা থেকে তিনি জানান, ”জেতার পর বাঙালিদের বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল, হিন্দু মুসলমান ভাগ করে দিয়েছিল। প্রায় এক মাস অশান্তি ছিল। খবর পেয়ে আমি ছুটে এসেছিলাম। দেখলাম রাতারাতি সব অফিস দখল করে নিয়েছে। সব বাড়িতে তালা দিয়ে দিয়েছে। নৈহাটির লোকেরা কাঁদছে। বড়মার পবিত্র জায়গা। কাঁদছে ব্যারাকপুর, বীজপুর, জগদ্দল, কাঁচরাপাড়া। আমি যাচ্ছি রাস্তা দিয়ে আর আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি দেওয়া হচ্ছে। আমি কিছু বলিনি। শুধু একটাই কথা আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এসেছিল জয়বাংলা। সেটাই এখন আমাদের স্লোগান, যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।”
পাশাপাশি বিজেপিকে কাঠগোড়ায় তুলে তিনি বলেন, ”৯০ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী? পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ২০২৫ সালে আপনারা বলেছিলেন, সারা দেশে মাত্র ২,০০০ কিছু অনুপ্রবেশকারী। আপনারা অনুপ্রবেশকারী? কিছু কিছু বহিরাগত ব্যক্তিকে প্রার্থী করা হয়েছে। ওদের জামানত জমা করতে হবে। কেন বাংলায় কথা বললে অনুপ্রবেশকারী বলবেন? বর্ডার আটকানোর দায়িত্ব কার? সব রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। আর বলছে বাংলা নাকি অনুপ্রবেশকারীর কারখানা। আসলে বাংলাকে বহিরাগতদের কারখানা করার চেষ্টা করছো। এখানে বহিরাগতদের কোনও ঠাঁই নাই।”
তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “কেউ যদি ভাবেন, নবান্নে বসে রয়েছি বলে, পানিহাটি, কামারহাটি, উত্তর দিনাজপুর খোঁজ রাখি না, ভুল করবেন। আমি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে খোঁজ রাখি। যাঁরা লোভ করে তাঁদের জন্য তৃণমূল নয়। যাঁরা জবরদস্তি করবে, তাঁদের জন্য তৃণমূল নয়। এটা বিজেপি নয়। আমি মনে করি কর্মীরা আমার সম্পদ। আজও নিজেকে কর্মী বলে পরিচয় দিই। আমার ধর্ম একটাই, মানবিকতা। আমার ধর্ম রামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ, বাংলার মাটি, বাংলার জল। আমি ভাগাভাগিতে বিশ্বাস করি না।”
তাঁর আরও সংযোজন, “কেউ কেউ বাঙালি-অবাঙালি করার চেষ্টা করছেন। কত লোককে দাঁড় করিয়েছেন কোনও কোনও আসনে। তাঁদের জমানত জব্দ করতে হবে। বাইরে থেকে লোক আসছে। মিছিল করার লোক নেই বিজেপির। এজেন্সিকে দিয়ে হোর্ডিং লাগাচ্ছে। গরিব মানুষকে ৫০০ টাকা পকেটে গুঁজে দিয়ে বলছে, মিছিলে আসবে। যখন বন্যা হয়, একটা টাকা দেয় না। কেউ মারা যায়, টাকা দেয় না। বাংলায় কথা বললে অত্যাচার করে। বিহারে অত্যাচার হয়। ইউপি, রাজস্থানে হয়। দিল্লির জমিদারেরা জবাব দেবেন? কেন বাংলায় কথা বললে বিদেশি, অনুপ্রবেশকারী বলবেন? সীমান্ত আটকানোর দায়িত্ব কার? আমোদী-প্রমোদীরা বলছেন, এটা নাকি অনুপ্রবেশের কারখানা। আমি বলব বহিরাগতদের কারখানা! বহিরাগতদের কোনও ঠাঁই নাই। ১০০ দিনের টাকা বন্ধ। গ্রামীণ আবাসনের টাকা বন্ধ। রাস্তা-সহ সব টাকা বন্ধ। দক্ষিণেশ্বর-নোয়াপাডা় কে করেছিল? স্কাইওয়াক করে করেছিল? আমি করেছিলাম। এই কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে! কলকাতা থেকে তাড়াতাড়ি যাচ্ছেন বড়মার মন্দির থেকে সব জায়গায়।’’
মোদি শাহকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘‘ভোটবাবুরা আসছে। এত নাম কেটে লজ্জা নেই? ৯০ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী? পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ২০২৫ সালে আপনারা বলেছিলেন, সারা দেশে মাত্র ২,০০০ কিছু অনুপ্রবেশকারী। আপনারা অনুপ্রবেশকারী? আজ যারা এখানে জন্মাল, তারা অনুপ্রবেশকারী? লাইনে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করতে হবে যে নাগরিক! এর পরের পরিকল্পনা হল এনআরসি। অসমে এনআরসি করে ১৯ লক্ষ লোকের নাম বাদ দিয়েছে। ১৩ লক্ষ হিন্দুও ছিল। অনেক মতুয়া, তফসিলি, সংখ্যালঘুর নাম বাদ দিয়েছে। হিন্দুদের নাম কম বাদ দেয়নি। গাইঘাটা, বনগাঁ গিয়ে দেখে আসুন। ওহে মোটাভাই, সাথে ইডি, সিবিআই। দিল্লিতে থেকে এল গাই, সাথে ইডি, সিবিআই। হুমকি দিচ্ছেন সকলকে। ধমক দিচ্ছেন। ওঁর কাজ ফোন করে ধমকানো। কেউ কেউ কিছু পাওয়ার জন্য মাথা নত করে। আমাকে কব্জা করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে, পারেনি। পারবেও না। আমাকে ধমকালে আমি চমকাই। আমি মানুষের ভরসা। আমার নিজের বলে কিছু নেই। চাই ও না।”




