কলকাতা: সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় বিজেপির ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তেহার বা সংকল্পপত্র প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি রাজ্যের শাসকদলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং বাংলার উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন।
অমিত শাহের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশ প্রসঙ্গকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে এবং বাংলাকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “শেখ হাসিনা দিল্লিতে কী করছেন? কোন শিল্পপতিকে বাঁচাতে তাঁকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে?” তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটলেও ভারত সরকার সেই বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা নেয়নি।
তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুকে ঘুরিয়ে বাংলার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, বাংলা ভাষায় কথা বললেই ভিনরাজ্যে বহু পরিযায়ী শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। এই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের তরফে উঠে আসছে। তাঁদের দাবি, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনেক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গার নাম বাদ যাবে বলে আগে থেকেই বিজেপি নেতারা দাবি করেছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গিয়েছে, বাদ পড়াদের বড় অংশই বাংলাভাষী হিন্দু। এই বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে।
তৃণমূল শিবিরের মতে, বিজেপির এই ইস্তেহার বাস্তব সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির তালিকা মাত্র। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার সংস্কৃতি ও পরিচয়কে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক আক্রমণ চালাচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “বাংলাদেশে সাধুসন্তদের উপর যখন অত্যাচার হয়েছে, তখন কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নিয়েছে?”




