কলকাতা: আসন্ন নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে একেবারে নতুন কৌশল গ্রহণ করল কলকাতা পুলিশ। শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে শহরের প্রতিটি থানাকে সেক্টরে ভাগ করে বহুস্তরীয় নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এবার ভোটের অনেক আগেই এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছে, যা প্রশাসনের বাড়তি সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের প্রতিটি থানাকে আয়তন ও জনবহুলতা অনুযায়ী চার থেকে পাঁচটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরের জন্য নির্দিষ্ট টিম তৈরি করা হয়েছে। এই টিমে থাকছেন একজন পুলিশ আধিকারিক (সাব-ইন্সপেক্টর বা অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার), একজন কেন্দ্রীয় বাহিনীর অফিসার এবং দু’জন সিভিল অফিসার। পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদেরও এই দায়িত্বে যুক্ত করা হয়েছে।
সেক্টর আধিকারিকদের কেবল দায়িত্ব দেওয়া নয়, তাঁদের সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরের বিস্তারিত মানচিত্র তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে এলাকার প্রতিটি রাস্তা, গলি ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়। প্রয়োজনে গাড়ির পাশাপাশি পায়ে হেঁটেও এলাকা ঘুরে দেখার নির্দেশ রয়েছে।
এছাড়াও, এলাকার বাসিন্দাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ। কোন বাড়িতে কারা থাকেন, কোথায় বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষ রয়েছেন এসব তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে সেইসব ভোটারদের দিকে, যাঁরা শারীরিক অসুবিধার কারণে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন না।
এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল জনসংযোগ বাড়ানো। সেক্টর আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের আস্থা অর্জন করেন। কেউ ভোট দিতে গিয়ে ভয় পাচ্ছেন কি না বা কোনও রকম চাপের মুখে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
এছাড়াও, এলাকায় সম্ভাব্য ‘ট্রাবল মেকার’দের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। ভোটের আগে বা ভোটের দিন যাতে কোনও ধরনের গোলমাল না হয়, তার জন্য আগাম নজরদারি চালানো হচ্ছে। সন্দেহজনক কার্যকলাপ নজরে এলেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটের দিন প্রতিটি সেক্টর আধিকারিককে নিজের এলাকায় সারাক্ষণ সক্রিয় থাকতে হবে। কোথাও সামান্য উত্তেজনা বা গোলমালের আশঙ্কা দেখা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানাকে জানাতে হবে। এতে দ্রুত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে। যেসব এলাকায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে, সেখানে বাইরে থেকে নজরদারি চালানোর দায়িত্বও থাকবে সেক্টর আধিকারিকদের উপর। ভোট প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নির্বিঘ্ন হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।




