কলকাতা: রাজ্যের আধা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বহু প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটাতে উদ্যোগী প্রশাসন। শিক্ষা দফতরের সদর দফতর বিকাশ ভবনে ইতিমধ্যেই তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও এতদিন বিষয়টি ঝুলে থাকায় শিক্ষামহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপে সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই কাটতে শুরু করেছে। শিক্ষা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, শুধু স্কুল স্তর নয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষকদের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা দফতরের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে কার কত ডিএ বকেয়া রয়েছে। ফলে গোটা শিক্ষাক্ষেত্র জুড়ে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের নির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। ওই সময় সংশ্লিষ্ট কর্মীরা কোন পদে ছিলেন, তাঁদের ব্যান্ড পে ও অ্যাকাডেমিক গ্রেড পে কত ছিল—এই সমস্ত তথ্য খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই তিনটি আলাদা পর্যায়ে তথ্য ভাগ করে নেওয়ার ফলে হিসাব নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। সমস্ত তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ হলে ‘ম্যাচিং অর্ডার’ জারি করা হবে। এই নির্দেশ জারি হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে বকেয়া ডিএ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
গত ১৫ মার্চ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী এবং অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও ডিএ পাওয়ার অধিকারী। তিনি আরও বলেন, রোপা-২০০৯ অনুযায়ী ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকেই এই বকেয়া ডিএ দেওয়া শুরু হবে। যদিও পরে শুধুমাত্র সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে উদ্যোগ দেখা যাওয়ায় কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল।
সম্প্রতি নবান্নে অর্থ দফতর ও শিক্ষা দফতরের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর পরিস্থিতি ইতিবাচক হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এবার আর কোনও অনিশ্চয়তা থাকবে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের মতে, ধাপে ধাপে সমস্ত স্তরের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে এই উদ্যোগ বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




