মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের জলঙ্গীতে নির্বাচনী জনসভা থেকে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সাদিখাঁরদিয়াড় বিদ্যানিকেতন মাঠে দাঁড়িয়ে তিনি অভিযোগ করেন, জেলায় বিজেপির হয়ে তিনটি শক্তি একযোগে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন, কংগ্রেস এবং মিম।
সভা থেকে অভিষেক প্রথমেই নিশানা করেন নির্বাচন কমিশনকে। তাঁর দাবি, কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না এবং ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
এরপর কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। অভিষেকের অভিযোগ, অধীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা নিচ্ছেন, যা নিয়ন্ত্রিত হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর মাধ্যমে। তাঁর কথায়, “এতে স্পষ্ট, কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে অঘোষিত বোঝাপড়া রয়েছে।”
একইসঙ্গে মিম প্রধান আসাউদ্দিন ওয়াইসিকেও আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, মিমের রাজনীতি বিরোধী ভোটকে ভাগ করে বিজেপির সুবিধা করে দেয়। তিনি বলেন, “এই তিন শক্তি মিলেই বিজেপিকে শক্তিশালী করার কাজ করছে।” এদিন জলঙ্গী ও ডোমকলের তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে অংশ নেন অভিষেক। জলঙ্গীর প্রার্থী বাবর আলি এবং ডোমকলের প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের কাজের প্রশংসা করে তিনি জানান, এঁরা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থেকে উন্নয়নের কাজ করেছেন।
বিরোধী দল সিপিএমের সমালোচনাও শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। তাঁর অভিযোগ, সিপিএম প্রার্থীদের নিজেদের দলই গ্রহণ করছে না এবং অতীতে তাদের দীর্ঘ শাসনকালেও মুর্শিদাবাদে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “৩৪ বছর ক্ষমতায় থেকেও কেন জেলার চিত্র পাল্টায়নি?”
অন্যদিকে রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অভিষেক বলেন, ডোমকল মহাকুমা হাসপাতালে পরিষেবা উন্নত হয়েছে, একাধিক উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে এবং শিক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। ডোমকলকে পুরসভায় উন্নীত করা, গার্লস কলেজ, ফায়ার স্টেশন, রাস্তার সংস্কার সবই তৃণমূল সরকারের উদ্যোগে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, জলঙ্গীতে শীঘ্রই একটি ফায়ার স্টেশন এবং দুধের চিলিং প্ল্যান্ট তৈরি করা হবে, যা দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে।
শেষে জনসাধারণের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা ছিল স্পষ্ট, “প্ররোচনায় পা দেবেন না, উন্নয়নের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।”




