নয়াদিল্লি: রাজধানীর মঙ্গলপুরীতে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রেমিকার সঙ্গে একাধিক পুরুষের শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেওয়ার চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করায় ২২ বছর বয়সি যুবক ক্রোধে আক্রান্ত হয়ে তার প্রেমিকাকে হত্যা করেছেন। নিহত তরুণী ওই এলাকায় পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত যুবক, তার কাকা এবং বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ৩৫ বছর বয়সি তরুণী এবং অভিযুক্ত যুবকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠও ছিলেন। তবে অভিযুক্তের কাকা এবং তার বন্ধু তরুণীকে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেন। তরুণী চাপ প্রত্যাখ্যান করলে, অভিযুক্ত তার উপর আক্রমণ চালিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার যুবক তার প্রেমিকাকে দেখতে মঙ্গলপুরীর বাড়িতে যান। তিনি বাড়ির মালিকের সঙ্গে দেখা করে তরুণীর ঘরে প্রবেশের অনুমতি পান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ির মালিক লক্ষ্য করেন, তরুণীর ঘরের দরজা অর্ধেক খোলা এবং ভেজা অবস্থায় রয়েছে। ভিতরে ঢুকে তিনি ভয়ঙ্কর দৃশ্যের মুখোমুখি হন বক্সখাটের ভিতরে তরুণীর পা দেখা যায়। অবিলম্বে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সময় অভিযুক্তের কাকা এবং তার বন্ধু বাড়ির বাইরে পাহারা দিচ্ছিলেন। যুবক প্রথমে তরুণীকে মাটিতে চেপে ধরে মারধর করেন। এরপর কম্বল দিয়ে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর দেহটি বক্সখাটের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত তরুণী বিবাহিত ছিলেন এবং তিনটি সন্তান রয়েছে। মঙ্গলপুরী এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পেয়িং গেস্টের নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সতর্কতা জোরদার করেছে। পুলিশ আরও তদন্ত চালাচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খুঁজছে।




