মহারাষ্ট্র: একটি নামী তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাকে কেন্দ্র করে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি, শ্লীলতাহানি এবং ধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মহারাষ্ট্রের নাসিকে। সংস্থার ছয়জন টিম লিডার এবং মানবসম্পদ বিভাগের এক কর্মীকে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার গুরুত্বের কারণে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে এবং আরও ভুক্তভোগী সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাগুলি দুই থেকে তিন বছর ধরে ঘটছিল। মোট নয়জন অভিযোগকারী রয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজন মহিলা এবং একজন পুরুষ। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে নয়টি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কোরেশি, রাজা মেমন এবং তৌসিফ আত্তার। এছাড়া একজন নারী অভিযুক্ত রয়েছেন, যিনি পুণেতে সংস্থার এইচআর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।
ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণী। তাঁদের অভিযোগ, অফিসে নিয়মিতভাবে অশালীন মন্তব্য, শরীর বা পোশাক নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক ইঙ্গিত এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত বিবাহিত এবং অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ভুক্তভোগীর সঙ্গে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।
ভুক্তভোগীরা এর আগে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিকার আইন, ২০১৩-এর অধীনে সংস্থার কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু সংস্থার তরফ থেকে অভিযোগগুলো উপেক্ষা করা হয় এবং ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই কারণে সংশ্লিষ্ট এইচআর কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সিট ঘটনাটি সব দিক থেকে তদন্ত করছে এবং বিশ্বাস করছে আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারেন। তদন্তকারীরা সকলকে এগিয়ে এসে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ আশঙ্কা করছে, ভয় ও লজ্জার কারণে অনেকেই এখনও মুখ খোলেননি। এই ঘটনা কর্পোরেট কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। নাসিকের এই আইটি সংস্থায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি শুধুমাত্র এক সংস্থার সমস্যা নয়, বরং সমগ্র কর্পোরেট জগতের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের জন্য সতর্কবার্তা। এখন দেখার, সিট কত দ্রুত তদন্ত শেষ করে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পায় কি না।




