নদিয়া: এসআইআর ট্রাইব্যুনালের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল ৬৮ বছরের জীবনকৃষ্ণ বিশ্বাসের। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার হাঁসখালি থানার বগুলা এলাকায়। ঘটনার জেরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার সমস্যার সমাধান করতেই তিনি রানাঘাটে এসডিও অফিসে গিয়েছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
পরিবারের দাবি, জীবনকৃষ্ণবাবুর পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও তাঁর এবং তাঁর এক মেয়ের নাম বাদ পড়ে যায়। এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই উদ্বেগে ছিলেন তিনি। সেই কারণেই প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বগুলা থেকে ট্রেনে করে রানাঘাটে পৌঁছন।
এসআইআর ট্রাইব্যুনালের লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের সমস্যার সমাধানের অপেক্ষা করছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অপেক্ষাই শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াল। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন জীবনকৃষ্ণবাবু। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে আনুলিয়া হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতের পরিবার দাবি করেছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ভুগছিলেন জীবনকৃষ্ণবাবু। তাঁর মেয়ে চম্পা বিশ্বাস বলেন, “বাবা খুব চিন্তায় ছিলেন। সব কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছিলেন সমস্যার সমাধানের জন্য। কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়েই অসুস্থ হয়ে পড়লেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে জানানো হয়, তিনি আর নেই।”
জীবনকৃষ্ণ বিশ্বাসের পরিবারে রয়েছে চার কন্যা এবং এক পুত্র। তাঁদের অধিকাংশই কাজের সূত্রে ভিন রাজ্যে থাকেন। চার কন্যার বিয়ে হয়ে গেলেও বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব মূলত মেয়েরাই পালন করতেন। এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই এই মৃত্যু। মৃতের মেয়ে বলেন, “আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। কার কাছে যাব, কে শুনবে আমাদের কথা? আমার বাবার মৃত্যুর জন্য রাজনীতি দায়ী।”
উল্লেখ্য, এর আগেও এসআইআর সংক্রান্ত সমস্যা এবং আতঙ্কের কারণে একাধিক মানুষের অসুস্থতা বা মৃত্যুর অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে এই ঘটনা নতুন করে প্রশাসনিক ব্যবস্থার মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ঘটনার পর বগুলা এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই ধরনের পরিষেবার ক্ষেত্রে বয়স্কদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা এবং দ্রুত পরিষেবা নিশ্চিত করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে আর এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।




