উত্তরপ্রদেশ: ১৬ বছরের এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷ ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বরেলি জেলার ভোজিপুরা এলাকায়৷ অভিযোগ, একটি ক্যাফে-রেস্তোরাঁয় নিয়ে গিয়ে সাতজন মিলে ওই নাবালিকার উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁর মালিক এবং তার কয়েকজন সহযোগী। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই মালিক ছাত্রীটির উপর অশালীন আচরণ করছিল এবং বারবার প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল। কিন্তু ছাত্রীটি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা এবং প্রতিশোধ নিতে এই অপরাধ ঘটায় বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে ছাত্রীটিকে জোর করে একটি ক্যাফে-রেস্তোরাঁয় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি ঘরে আটকে রেখে সাতজন মিলে তাকে ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীটিকে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়। পাশাপাশি তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।
গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ি ফিরে ছাত্রীটি তার পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে রেস্তোরাঁর মালিক সইফি ওরফে সমীর আহমেদের নাম উঠে এসেছে। এছাড়া আসাদ হায়দারসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে ঘটনার পর কয়েকদিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের ধরতে তল্লাশি চলছে এবং খুব শীঘ্রই তাদের গ্রেফতার করা হবে। যদিও এই ঘটনা ফের প্রমাণ করে, যোগীরাজ্যে নারীদের কোনও সুরক্ষা নেই। সকালে পর্যন্ত স্কুল-ছাত্রী থেকে শুরু করে অন্যদের জন্য কোনও নিরাপত্তার বন্দোবস্ত থাকে না।




