কোচবিহার: ভোটের মুখে কোচবিহারের নাটাবাড়িতে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার তুফানগঞ্জের আর.এম.সি গ্রাউন্ডে আয়োজিত জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বক্তব্যে তিনি একদিকে যেমন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন, অন্যদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে সরব হন।
সভা থেকে বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামীকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “নাটাবাড়ির মানুষ তাঁকে ‘সুইচ অফ বিধায়ক’ বলেই চিনত। কারণ, মানুষের প্রয়োজনের সময় তাঁর ফোন বন্ধ থাকত।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিষেক দাবি করেন, নাটাবাড়িতে প্রকৃত উন্নয়ন হয়েছে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, পথশ্রী, যুবসাথীর মতো প্রকল্পের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিধায়ক বিজেপির হলেও মানুষের পাশে থেকেছে তৃণমূল।”
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অমিত শাহ কোচবিহারে এসে একাধিক উন্নয়নমূলক ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু তার কোনওটাই বাস্তবায়িত হয়নি। নারায়ণী ব্যাটালিয়ন, চিলা রায়ের নামে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, এমনকি পর্যটন উন্নয়নের কথাও বাস্তবের মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও এদিন আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “ধর্মকে সামনে রেখে রাজনীতি করা হলেও বাস্তবে সেই ধর্মীয় স্থানে যাওয়ার আগ্রহ দেখা যায় না।” মদনমোহন মন্দিরে না যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি এই মন্তব্য করেন। এছাড়া বাংলার শ্রমিকদের অন্য রাজ্যে গিয়ে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক।
উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি জানান, নাটাবাড়িতে গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন এবং মহিলাদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে। আগামী দিনে আরও উন্নয়নমূলক প্রকল্প নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।




