মধ্যপ্রদেশ: মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ফের বিতর্কে বিজেপি শিবির। বিজেপির বিধায়ক প্রীতম লোধির ছেলে দীনেশ লোধির বিরুদ্ধে অভিযোগ, বেপরোয়া গতিতে এসইউভি চালিয়ে পাঁচজন নিরীহ পথচারীকে ধাক্কা মারেন তিনি। শুধু তাই নয়, দুর্ঘটনার পর তাঁর মন্তব্য ও আচরণ ঘিরে আরও তীব্র হয়েছে জনরোষ।
বৃহস্পতিবার সকালে নীলবাতি লাগানো একটি এসইউভি নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন দীনেশ। স্থানীয়দের দাবি, গাড়ির সামনে বড় করে ‘এমএলএ’ লেখা ছিল এবং সাইরেন বাজিয়ে দ্রুত গতিতে চলছিল সেটি। অভিযোগ, ট্র্যাফিক নিয়ম সম্পূর্ণ অমান্য করে এঁকেবেঁকে গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় উল্টোদিক থেকে আসা একটি মোটরবাইককে ধাক্কা মারেন দীনেশ। বাইকে থাকা তিনজন ছিটকে পড়েন রাস্তায়।
পরিস্থিতি তখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গাড়ির গতি না কমিয়েই সামনে থাকা দুই মহিলাকেও ধাক্কা মেরে বসেন তিনি। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারাই ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত পাঁচজন হলেন সঞ্জয় পারিহার, আশিস পারিহার, অংশুল পারিহার, সীতা বর্মা এবং পূজা সোনি। মাথা ও হাত-পায়ে চোট পান তাঁরা। যদিও চিকিৎসার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবুও ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর দীনেশ লোধির প্রতিক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ আরও বাড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি গাড়ি থেকে নেমে স্থানীয়দের সঙ্গেই তর্ক শুরু করেন। ভাইরাল ভিডিওতে তাঁর বক্তব্য, “আমি তো হর্ন দিয়েছিলাম, ওরা সরেনি কেন?” এই মন্তব্য যেন গোটা ঘটনার দায় এড়ানোর এক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি শুধুমাত্র অসচেতনতা নয়, বরং ক্ষমতার ঔদ্ধত্যের প্রকাশ।
অভিযোগ আরও গুরুতর দীনেশ নিজেকে বিধায়কের ছেলে পরিচয় দিয়ে স্থানীয়দের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন। প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ মানুষ কি তবে রাস্তায় নিরাপদ নন? রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে কি আইন ভাঙার লাইসেন্স মেলে? এছাড়াও নীলবাতির অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জরুরি পরিষেবার জন্য নির্ধারিত এই সুবিধা কীভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা কি প্রশাসনের অগোচরে ঘটে, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে রাখা হয়?
ঘটনার পর কারেরা থানায় দীনেশ লোধির বিরুদ্ধে এফআইয়ার দায়ের হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন, শুধুমাত্র এফআইয়ার দায়ের করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। অতীতে বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তদন্তের গতি কমে যায় বা শাস্তি এড়িয়ে যাওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে বিধায়ক প্রীতম লোধির বক্তব্য কিছুটা ব্যতিক্রমী শোনালেও, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, ছেলে অন্যায় করলে আইন অনুযায়ী শাস্তি পাবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলবে।
এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা কতটা গভীর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের আমলে এই ধরনের ঘটনা বারবার সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়েও।




