দিঘা: দিঘার জগন্নাথ ধামে বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এবার এক বিশেষ ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছে। আগামী অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যলগ্নে চৈতন্য মহাপ্রভুর বিগ্রহের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হবে, যা এই তীর্থক্ষেত্রের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
গত বছর অক্ষয়তৃতীয়ার দিনেই এই জগন্নাথধামের দ্বার সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই এই মন্দির ভক্তদের অন্যতম পছন্দের তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক বছরে এক কোটিরও বেশি মানুষ এখানে দর্শনে এসেছেন। ফলে দিঘা এখন পর্যটনের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবেও নিজের জায়গা শক্ত করেছে।
বর্ষপূর্তির এই বিশেষ দিনে জগন্নাথ দেবের বিগ্রহের পাশেই চৈতন্য মহাপ্রভুর বিগ্রহ স্থাপন করা হবে। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জগন্নাথদেবের বাম দিকে এই বিগ্রহ স্থাপন করা হবে, যা গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মীয় মতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চৈতন্য মহাপ্রভুকে রাধা-কৃষ্ণের যুগল অবতার হিসেবে মানা হয় এবং তাঁর উপস্থিতি ভক্তি আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
ঐতিহাসিকভাবে, চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর জীবনের শেষ ১৮ বছর কাটিয়েছিলেন পুরীতে। সেই সময় পুরী তাঁর ভক্তি আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সেই ঐতিহ্য মেনেই বহু মঠ ও মন্দিরে জগন্নাথদেবের সঙ্গে চৈতন্য মহাপ্রভুর পূজা হয়ে থাকে। এবার দিঘার জগন্নাথধামেও সেই প্রথার অনুসরণ করা হচ্ছে।
এই উপলক্ষে মন্দিরে সকাল থেকে শুরু হবে বিশেষ পূজা ও ধর্মীয় আচার। ১০৮টি তীর্থস্থানের পবিত্র জল দিয়ে অভিষেক অনুষ্ঠান করা হবে।পাশাপাশি মন্দির চত্বর রঙিন আলো ও অসংখ্য প্রদীপে সজ্জিত করা হবে, যা ভক্তদের জন্য এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ওই দিন সারাদিন মন্দির খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ পূজার পাশাপাশি কীর্তন, ভজন ও শাস্ত্রীয় নৃত্যের অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের বহু ভক্ত এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই দিন থেকেই শুরু হবে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার প্রস্তুতি।রথপুজোর মাধ্যমে রথ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। প্রতি বছর এই রথযাত্রা উপলক্ষে বিপুল ভক্তসমাগম হয়, তাই এবছরও উৎসবের আবহ থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের মতে, জগন্নাথদেব ও চৈতন্য মহাপ্রভুর আধ্যাত্মিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন সংযোজন দিঘার জগন্নাথধামকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং ভক্তদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।





