কলকাতা: দেশের চিকিৎসা মহলে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত ডাঃ মণি কুমার ছেত্রীর প্রয়াণে এক যুগের অবসান ঘটল। রবিবার দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ প্লেসে নিজের বাসভবনে ১০৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ডাঃ ছেত্রীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘‘প্রথিতযশা চিকিৎসক ডা. মণি ছেত্রীর প্রয়াণে আমি শোকাহত। বাংলা তথা ভারতের চিকিৎসা জগতে একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি ও তাঁর পরিবার তথা অগণিত ছাত্রছাত্রী-রোগী-গুণমুগ্ধদের প্রতি আমার সমবেদনা জানাই।”
মণি কুমার ছেত্রী পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে বাড়িতে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন এই প্রবীণ চিকিৎসক। এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বয়সজনিত সমস্যার সঙ্গেই লড়াই করে শেষপর্যন্ত তিনি প্রয়াত হন। ১৯২০ সালের ২৩ মে দার্জিলিংয়ে জন্মগ্রহণ করেন ডাঃ মণি ছেত্রী। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৪৪ সালে এমবিবিএস পাশ করে চিকিৎসা জীবনে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গেলেও দেশের মাটিতেই তিনি নিজের কর্মজীবনের মূল সময় কাটান।
হৃদরোগ চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তি চালুর ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর চিকিৎসা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তাঁকে আন্তর্জাতিক স্তরেও পরিচিতি এনে দেয়। ১৯৭৪ সালে তাঁর এই অবদানের জন্য তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। সরকারি চাকরি থেকে ১৯৮২ সালে অবসর নেওয়ার পরেও দীর্ঘদিন রোগীদের সেবা করে গিয়েছেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগেও তিনি নিয়মিত চিকিৎসা করতেন। যদিও শেষ জীবনে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে চিকিৎসা থেকে সরে আসেন।




