পশ্চিম বর্ধমান: বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক লড়াই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। শনিবার পানুরিয়া হাসপাতাল গ্রাউন্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপি প্রার্থীকে তীব্র আক্রমণ শানালেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপোধ্যায়। দলীয় প্রার্থী বিধান উপাধ্যায়ের সমর্থনে এই সভা থেকেই তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘‘বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, এমনকি তাঁর নিজের দলের ভেতর থেকেই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।’’ তিনি দাবি করেন, “যে প্রার্থী নিজের দলের আস্থাই অর্জন করতে পারেননি, তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করবেন কীভাবে?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের সতর্ক থাকার বার্তাও দেন।
বিধান উপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করে অভিষেক বলেন, “তিনি শুধু একজন বিধায়ক নন, তিনি মানুষের আপনজন। বছরের প্রতিদিন তিনি মানুষের সমস্যার কথা শোনেন এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ান।” তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই নির্বাচনে শুধু জয় নয়, এমন জয় নিশ্চিত করতে হবে যাতে বিজেপি বারাবনিতে কোনও জায়গা না পায়।
সভায় বারাবনি এলাকার পাথর খাদান ও কারখানার শ্রমিকদের সমস্যার প্রসঙ্গ বিশেষভাবে তুলে ধরেন তৃণমূল নেতা। তিনি বলেন, ‘‘এই অঞ্চলে যাঁরা পাথর কাটা ও মার্বেল শিল্পে যুক্ত, তাঁদের মধ্যে সিলিকোসিস রোগের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। এই রোগে ফুসফুসসহ শরীরের একাধিক অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।’’
এই পরিস্থিতিতে অভিষেক ঘোষণা করেন, যেসব শ্রমিকের কাছে সিলিকোসিসের সরকারি পরিচয়পত্র রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে রাজ্য সরকার। এছাড়াও তিনি রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। অভিষেক জানান, বারাবনি ও সংলগ্ন এলাকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গড়ে উঠেছে জেলা আদালত, চুরুলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ডিএম অফিস, আসানসোল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। পাশাপাশি ক্যান্সার রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা চালু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বারাবনি বাজারের সংস্কার এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আধুনিকীকরণের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে।” এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন অভিষেক। মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ক্রমাগত বাড়ছে, সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাব পড়ছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ।”




