কলকাতা: সম্প্রতি কয়েকটি ওষুধে কমানো হয়েছে জিএসটি। কিছু ওষুধে ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ জিএসটি করা হয়েছে। এবার তা নিয়েই কিছু নিয়মনীতি মানার জন্য বিক্রেতাদের উদ্দেশ্য কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ড একটি সার্কুলার জারি করেছে। সেখানেই জানানো হয়েছে, দোকানগুলিতে(Medicine Shop) ক্রেতাদের এই তথ্য জানাতে পোস্টার ও ব্যানার লাগাতে হবে। তার নমুনাও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ড। সেই নমুনা পোস্টারেই রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি। তা নিয়েই এবার বিতর্কের ঝড়।
নয়া সার্কুলারে বলা হয়েছে প্রতিটি পাইকারি এবং খুচরো ওষুধের দোকানে(Medicine Shop) টাঙিয়ে রাখতে হবে এই পোস্টার, ব্যানার। সেই ব্যানারে লেখা রয়েছে, “কিছু ওষুধে জিএসটি ১২ থেকে কমে ৫ শতাংশ হয়েছে। ক্যানসারের ওষুধের জিএসটি এখন শূন্য। পাশাপাশি দাম কমেছে শুকনো খাবার, জিমের যন্ত্রপাতি, মেডিক্যাল ডিভাইস, চশমা, কন্ট্যাক্ট লেন্স, জুস, ফ্রুট পাল্পের।”
রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ড সূত্রে খবর, পাইকারি খুচরো মিলিয়ে বাংলায় ১ লক্ষ দশ হাজার ওষুধ বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি আউটলেটে টানা ১০০ দিন লাগাতে হবে নরেন্দ্র মোদির ছবি সম্বলিত কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ডের পোস্টার, যার প্রতিবাদ জানিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভস ইউনিয়নও। সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পার্থ রক্ষিতের কথায়, “কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ডের সার্কুলারে যা লেখা হল তা কার্যত সরকারি টাকায় দলীয় প্রচার।”
পার্থ রক্ষিতের দাবি, জীবনদায়ী ওষুধের দাম বাড়ানো গর্হিত অপরাধ। ওষুধে জিএসটি বসানোর পর থেকেই আমরা শূন্য জিএসটির দাবি জানিয়েছিলাম। তা তো হয়নি। জিএসটি কমানোকেও রাজনৈতিক চটক বলে জানিয়েছেন পার্থ রক্ষিত। বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পৃথ্বী বসুর কথায়, আমরা সার্কুলার পেয়েছি। জানিয়ে দিয়েছি রিটেলারদের।
গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাংলায় শাসকপন্থী চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের সংগঠন প্রোগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশন। প্রোগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ডা. করবী বড়াল জানিয়েছেন, ওষুধে জিএসটি চাপিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তারপর থেকে নাগাড়ে প্রতিবাদ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চাপে পড়ে সেই জিএসটি সামান্য কমিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
ডা. বড়াল আরও বলেন, আমজনতার জন্য এই কাজ করা তাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। তার জন্য পোস্টার টাঙিয়ে রাজনৈতিক প্রচার করা লজ্জাজনক। তাঁর কথায়, “নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেছেন নরেন্দ্র মোদি। যাঁরা তাঁকে ভোট দিয়েছেন যাঁরা দেননি সকলের জন্য কাজ করতে তিনি দায়বদ্ধ। সেখানে জিএসটি কমিয়ে এই ধরনের পোস্টার ছাপিয়ে
প্রচার অত্যন্ত দৃষ্টিকটু।”





