কলকাতা: ভোটের আবহে আবারও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে গাফিলতির অভিযোগ তুলে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরব হয়েছে রাজ্যের শাসকদল। বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠকের পর এই ইস্যুতে সরাসরি আক্রমণ শানান তৃণমূলের প্রতিনিধিরা।
এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন শশী পাঁজা, অরূপ বিশ্বাস এবং নাদিমুল হক। তাঁদের অভিযোগ, প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া রাজ্যগুলির মধ্যে কেরলের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত তথ্য এখনও নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়নি। এই বিষয়টি ঘিরেই সন্দেহ দানা বাঁধছে যে, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও একইভাবে তথ্য গোপন করা হতে পারে।
তৃণমূলের দাবি, ভোটার তালিকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং তা নিয়ে কোনও ধরনের অস্পষ্টতা বা দেরি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। অরূপ বিশ্বাস বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে কাজ করতে হবে এবং কোনও রাজনৈতিক দলের প্রভাব যেন তাদের কাজে প্রতিফলিত না হয়। তাঁর কথায়, “কমিশন যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, অন্ধ্রপ্রদেশে ভোটের দিন নির্ধারিত সময় পেরিয়ে রাতের দিকে বিপুল সংখ্যক ভোট পড়ার ঘটনা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বাংলায় যাতে কোনওরকম সন্দেহজনক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে কমিশনকে সতর্ক থাকার বার্তা দেন তৃণমূল নেতারা।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, কোনও অভিযোগই হেলাফেলা করা হচ্ছে না। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগারওয়াল জানান, প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোথাও কোনও অনিয়ম ধরা পড়লে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া পোস্টাল ব্যালটের মোট ভোটের সংখ্যা নির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশ না হওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীরা মনে করছে, এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্ত তথ্য নিয়ম মেনে ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে।
ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে এই ধরনের বাকযুদ্ধ নতুন নয়, তবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখন দেখার, কমিশন কীভাবে এই অভিযোগগুলির মোকাবিলা করে এবং স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেয়।



