কলকাতা: বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ইস্যুতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আশার আলো দেখছেন রাজ্যের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। শিক্ষা দফতরের তৈরি গুরুত্বপূর্ণ ডিএ সংক্রান্ত ফাইল ইতিমধ্যেই নবান্নে পৌঁছে গিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এর ফলে খুব তাড়াতাড়ি এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, বিকাশ ভবন থেকে চলতি সপ্তাহেই এই ফাইল পাঠানো হয়েছে। বহু পর্যায়ের হিসাবনিকাশ এবং তথ্য যাচাইয়ের পরই এই ফাইল প্রস্তুত করা হয়। এর আওতায় রয়েছেন স্কুলশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দফতরের অধীন শিক্ষক-শিক্ষিকা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, দফতরের আধিকারিক এবং বিভিন্ন শিক্ষাকর্মী।
সূত্রের খবর, বকেয়া ডিএ নির্ধারণের জন্য স্কুলশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দফতর আলাদাভাবে কাজ শুরু করেছিল। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধ্যাপক ও অন্যান্য কর্মীদের প্রাপ্য সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর সমস্ত তথ্য একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরি করা হয় এবং সেটিকেই চূড়ান্ত ফাইল হিসেবে নবান্নে পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, ফাইল নবান্নে পৌঁছনো মানেই বিষয়টি এখন নীতিগত সিদ্ধান্তের স্তরে রয়েছে। অর্থাৎ, ফাইল অনুমোদন পেলেই অর্থ দফতরের মাধ্যমে পরবর্তী আর্থিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। এতে করে বহুদিন ধরে আটকে থাকা বকেয়া ডিএ মেটানোর পথ অনেকটাই প্রশস্ত হবে। গত ১৫ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সমাজমাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে জানিয়েছিলেন, শুধু সরকারি কর্মচারী নয়, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও ডিএ পাওয়ার অধিকারী। তিনি আরও বলেন, রোপা-২০০৯ অনুযায়ী ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে ধাপে ধাপে বকেয়া ডিএ মেটানোর কাজ শুরু করা হবে।
তবে পরে শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেই উদ্যোগ শুরু হওয়ায় শিক্ষামহলে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা আদৌ এই সুবিধা পাবেন কি না। কিন্তু সাম্প্রতিক অগ্রগতির ফলে সেই সংশয় অনেকটাই দূর হয়েছে। সম্প্রতি নবান্নে অর্থ দফতর ও শিক্ষা দফতরের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই বৈঠকগুলিতে ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের মতে, ফাইল অর্থ দফতরে পৌঁছে যাওয়ার পর এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোবে।




