নয়াদিল্লি: দেশে ডিজিটাল লেনদেনকে ‘দ্রুত, সহজ ও নিরাপদ’ করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সাম্প্রতিক প্রস্তাব তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। আরবিআই-র প্রস্তাবিত ‘ওয়ান আওয়ার ওয়েট’ বা এক ঘণ্টার বিলম্ব ব্যবস্থা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ হাজার টাকার বেশি ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে টাকা সঙ্গে সঙ্গে প্রাপকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে না। বরং প্রেরকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়ার পর সেটি এক ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাঙ্কের তত্ত্বাবধানে থাকবে। এই সময়ের মধ্যে প্রেরক যদি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বা ভুল করে টাকা পাঠিয়েছেন, তাহলে সেই লেনদেন বাতিল করার সুযোগ পাবেন। আরবিআই এই সময়সীমাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
আরবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে অনলাইন জালিয়াতির পরিমাণ ভয়াবহ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে যেখানে প্রতারণার অঙ্ক ছিল ৫৫১ কোটি টাকা, তা ২০২৫ সালে বেড়ে প্রায় ২২ হাজার ৯৩১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রতারকরা সাধারণত দ্রুততার সুযোগ নেয়। তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যাতে ব্যবহারকারীরা তাড়াহুড়োয় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। ফলে টাকা পাঠানোর পরই তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এই দ্রুত প্রক্রিয়াকে থামাতেই এই বিলম্বের পরিকল্পনা।
এই প্রস্তাব কার্যকর হলে জরুরি লেনদেনে সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসা, ব্যবসা বা ব্যক্তিগত জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর প্রয়োজন হয়। সেই ক্ষেত্রে এক ঘণ্টার অপেক্ষা অনেক সময় বড় অসুবিধা তৈরি করতে পারে। ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তবে সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যদি পরিষেবার গতি ও ব্যবহারযোগ্যতা কমে যায়, তাহলে তা নতুন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।




