মিনাখাঁ: নির্বাচনের আগেই জেলায় জেলায় প্রচারে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার মিনাখাঁর হাড়োয়া সার্কাস ময়দানে জনসভায় হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই সুন্দরবনকে আলাদা জেলা তৈরী করার ঘোষণা করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। সুন্দরবন নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, ”সুন্দরবনকে আলাদা জেলা তৈরি করা হবে, সাতটা নতুন জেলার মধ্যে সুন্দরবন থাকবে”।
এদিন তিনি বলেন, ”যাতে এখানে সব কিছু সামনে পান সেই ব্যবস্থা করা হবে। দূরে যেতে না হয় তেমন চিন্তা করা হচ্ছে। এখানে মহিলা থানা হয়েছে, SNCU আছে, মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব হয়েছে। একদিকে কুমির, অন্যদিকে বাঘের সঙ্গে লড়াই এখানে সাধারণ মানুষের। তাই সুন্দরবন নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। সুন্দরবনকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়।”
এই মর্মে তিনি উন্নয়নের খতিয়ান তুলে জানান, “আমরা ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ লাগিয়েছি। প্রতি বছর বন্যা হলে সুন্দরবন জেলায় আসি। সুন্দরবন ইউনেস্কো হেরিটেজ। তাই এটা রক্ষা করতে হবে। ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি, এরপর যুবসাথীদের জীবিকার সন্ধান করে দেব, সব কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেব, দুয়ারে স্বাস্থ্য করব সেখানে আপনাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে। আমাদের ১০৫টি প্রকল্প আছে যা বিশ্বের কোথাও নেই। আমরা একটা নতুন ধান উৎপাদন করছি। সেটি হল স্বর্ণধান। সেটি বিক্রিও হচ্ছে। চাষিদেরও লাভ হচ্ছে।”
পাশাপাশি মাছের উৎপাদন নিয়ে মমতা বলেন, “ইলিশের জন্য ২০১৩ সালে ডায়মন্ড হারবারে রিসার্চ সেন্টার করেছিলাম। মাছের ডিম আমরা নিজেরা তৈরি করি, যা আগে হায়দরাবাদ থেকে আসত। চুনোপুঁটি সংরক্ষণ করি। হায়দরাবাদ থেকে যাতে মাছ কিনে না খেতে হয়। এখন অনেক ইলিশও বাংলায় জন্মায়। আগে মাছের জন্য হায়দরাবাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হত। এখন অনেক ইলিশ বাংলা জন্মায়। আজকে বিজেপি ভাবছে উকুন বাছার মতো ভোট কেটে নাও। ওরা মহিলা, কৃষক, শ্রমিক বিরোধী, ভাই-বোনেদের, সংখ্যালঘু বিরোধী। গায়ের জোরে বাংলা দখল করতে চায়। বিজেপি রাজ্যে মাছ, মাংস, ডিম খাওয়া যাবে না। সব বন্ধ করে দিয়েছে।”
এদিন নাম না-করে মোদিকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বিজেপি রাজ্যে গেলে বাংলা ভাষায় কথা বলা যাবে না। মাছ, মাংস, ডিম বন্ধ। এখানে টেলিপ্রম্পটারে আমোদী, প্রমোদী বলেন ‘সুনার বাংলা’ গড়বে। বাংলা ভাষায় কথা বললেই মারো! ‘সুনার বাংলা’ গড়বে! বিজেপিকে ভোট দিলে আপনার ঠিকানা, আপনার অস্তিত্ব চলে যাবে। তৃণমূলকে ভোট দেবেন। গাইতে গাইতে যাবেন, যতই করো হামলা, গণতন্ত্র রক্ষা করতে জিতবে বাংলা।’’
এরপরেই এসআইআর প্রসঙ্গে কমিশনকে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”৯০ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছ, মনে রেখো তাতেও আমরা জিতব। গণতন্ত্রকে চৈত্র মাসের সেলের মত বিক্রি করে দিয়েছে বিজেপি। এভরি অ্যাকশন হ্যাজ় ইটস রিঅ্যাকশন। ৩২ লক্ষ নাম তুলেছে। সবার নাম তোলার ব্যবস্থা আমরা করব। নাম কেন বাদ দিয়েছে জানেন? এরপর এনআরসি করবে। আমি থাকতে বাংলায় এনআরসি করতে দেব না। বিজেপি বলে বাংলা দখল করবে। আমি বলি ঘেঁচু করবে। লড়বো, করবো, জিতবো। যতই করো চক্রান্ত সব হবে ব্যর্থ। মানুষকে রক্ষা করতে হবে।”
দিল্লি দখলের হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, “দিল্লি থেকে এদের না সরালে মানুষ বাঁচবে না। ওদের ধর্ম বিষক্রিয়া। ওদের মাথা বিষবৃক্ষে ভরা। ওখানে দু’মুখো সাপ জন্মায়। কেউটে, গোখরোকে ঘরে ঢুকতে দেবেন না। জেনে রাখবেন, কোটি কোটি টাকা দিয়ে প্রচার চলছে। একটা ভোট যদি বিজেপিকে দিয়েছেন তাহলে জানবেন ভুল জায়গায় দিয়েছেন, তাহলে আপনার অস্তিত্ব, ঠিকানা, সম্মান, জাতি, বর্ণ, বাংলা চলে যাবে।”
তাঁর সংযোজন, “বর্ডার এরিয়াতে অনেক ফোর্স আসছে। বিজেপি শেখাচ্ছে যাতে কেউ ভোট দিতে না পারে, তাঁদের আটকে দাও। বর্ডার কাদের? বহিরাগতদের থেকে সাবধান। ইভিএম মেশিন খারাপ হয়ে গেলে সেই মেশিনে ভোট দেবেন না। একটা কথা বলে যাই, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, যদি আমার নাম করেও কেউ চায়, দেবেন না, তৃণমূলের নাম করে চাইলেও দেবেন না। বলছে, আপনার ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকাব। আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরটা দিন। যেটুকু আপনার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আছে, কেড়ে নেবে। যেটুকু আপনার সম্পদ আছে, সেটাকেও কেড়ে নেবে আগামী দিন।”




