এবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নেটমাধ্যমে নয়া ভিডিও প্রকাশ করল তৃণমূল। গত সোমবার থেকে লাগাতার বজ্রপাতের ঘটনার জেরে রাজ্যে প্রায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বহরমপুর, রঘুনাথগঞ্জ, পোলবা, তারকেশ্বর, খানাকুলে পৌঁছে গিয়েছিলেন অভিষেক। যেভাবে বিপদে পড়া পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে অভিষেক পাশের বাড়ির ছেলে হয়ে উঠেছেন।
উল্লেখ্য, এই রাজ্যে বাজ পড়ে মৃত্যুর ঘটনা এর আগেও একাধিকবার ঘটেছে। বহু ক্ষেত্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিহত-আহতদের বাড়ি ছুটে গেছেন। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথ অনুসরণ করে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় একই পথে হাঁটলেন। কখনও ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’-এর পরে উপকূলীয় এলাকায় পৌঁছে যাওয়া৷ কখনও আবার বাঁধ ভেঙে জলোচ্ছ্বাস হওয়ার পরে বিধ্বস্ত গ্রামে চলে যাওয়া। গত কয়েকদিন ধরে অন্য চেহারায় দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে। তিনি হাবেভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন এই মুহূর্তে মানুষের পাশেই যে তিনি থাকবেন সেটা তার প্রতিটি পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।দলে তিনিই সেকেন্ড ইন কমান্ড, এমন কথা বহুদিন ধরেই শোনা যায় তৃণমূলের একাধিক নেতা নেত্রীর মুখে। কিন্তু সর্বভারতীয় স্তরে অভিষেকের অভিষেক হবার পরেও অবশ্য তিনি নিজেকে কর্মী হিসাবে পরিচয় দিয়ে আসছেন।
প্রসঙ্গত, অভিষেকের প্রায় প্রতিদিন নানা ইস্যুতেই মানুষের পাশে থাকার বার্তা নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের। গতকাল বহরমপুর, রঘুনাথগঞ্জ৷ আজকে হুগলীর সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে, অভিষেক ভীষণ ধৈর্য্য ধরে শুনছেন সকলের কথা৷ বহরমপুরে গিয়ে দেখা গেল, অভিষেক বন্দোপাধ্যায় একটি বাচ্চা ছেলেকে জড়িয়ে ধরেছেন। অনেকেই বলছেন অভিষেক নিজেও একটা স্নেহশীল পিতা। সেটা তার চেহারায় প্রকাশ পেয়েছে। আবার রঘুনাথগঞ্জে গিয়ে তিনি খোঁজ নিয়েছেন, সুনীল দাসের মেয়ের বিয়ে কী কী অসুবিধায় আটকে গিয়েছে। দুর্যোধনের ছেলের পড়াশোনায় যেন বাধা না আসে। শুধু সাংসদ বা রাজনৈতিক নেতা নয়। কোথাও গিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ঘরের ছেলেও। যিনি ঘরোয়া সমস্যার সমাধান করছেন। বিধানসভা ভোটের আগেই অভিষেককে দেখা গিয়েছিল ‘দিদির দূত’ ক্যাম্পেন লঞ্চ করতে। যেভাবে তিনি মমতা বন্দোপাধ্যায় পরিচালিত রাজ্য প্রশাসন ও তৃণমূলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করছেন তাতে অভিষেক নিজেই এখন হয়ে উঠেছেন দিদির দূত। যাঁকে নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে জাতীয় রাজনীতিতেও।