ওয়াশিংটন: আগামী পয়লা অগস্ট থেকে বিভিন্ন দেশের উপর ‘পারস্পরিক’ বা পাল্টা শুল্ক কার্যকর করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ইতিমধ্যেই আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া চড়া শুল্ক এড়াতে মার্কিন মুলুকের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সেরে ফেলেছে বেশকিছু দেশ। তবে এখনও পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হয়নি আমেরিকার। এর মধ্যেই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করতে আরও দর কষাকষির প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির।
সোমবার ‘সিএনবিসি’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জেমিসন গ্রির জানিয়েছেন, “আমরা ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চাই। আমাদের সঙ্গে তাঁদের বরাবরই গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই জল্পনা তুঙ্গে। মার্কিন প্রতিনিধির ওই মন্তব্যের পর তিনদিনের মধ্যে এই চুক্তি আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করছে ওয়াকিবহাল মহল।
পূর্বে আমেরিকার প্রতিনিধি জানিয়েছিলেন নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের বাণিজ্যচুক্তি খুব শীঘ্রই হতে চলেছে। তবে এখন যে পরিস্থিতি একটু বদলে গিয়েছে, তা-ও মেনে নিয়েছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তাঁর ব্যাখ্যা, নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে ভারত বহু বছর ধরে যে নীতি নিয়ে চলে, সেই নীতিতে অন্য দেশের জন্য দেশের বাজার খুলে দেওয়া একটা বড় নীতিগত বদল।
আমেরিকার প্রতিনিধি জানান, “তারা (ভারত) তাদের বাজারের একাংশ খুলে দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহপ্রকাশ করেছে। আমরা অবশ্যই তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। কিন্তু আমার মনে হয় ভারতের বন্ধুদের সঙ্গে আমাদের আরও আলোচনা প্রয়োজন। তা হলে বোঝা যাবে এই বিষয়ে তারা কতটা উচ্চাকাঙ্ক্ষী।”
উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতের পণ্যের উপরেও অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক (২৬ শতাংশ) বসানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর পাশাপাশি রয়েছে অ্যালুমিনিয়াম, ইস্পাত এবং গাড়িতে চড়া কর। এই আবহে আমেরিকার সঙ্গে পাঁচটি পর্যায়ে বৈঠক করেন ভারতের প্রতিনিধিরা। কিন্তু বৈঠকের ফল স্পষ্ট হয়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রের শোনা গিয়েছিল, পয়লা অগস্টের আগে অন্তর্বর্তী চুক্তি করতে চাইছে দু’পক্ষ। তবে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে এখনই অন্তবর্তী চুক্তি হচ্ছে না বলেই অনুমান করছেন অনেকে।




