আজ তৃতীয়া। বেজে গিয়েছে পুজোর বাদ্যি। ইতিমধ্যেই পুজোর উদ্বোধন শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারও সেই কর্মসূচি ছিল তাঁর। এদিন শুক্রবার হিন্দুস্তান পার্কের পুজো থেকে বাংলার অসম্মান নিয়ে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, “অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে যায়। যা দুঃখজনক। এই ঘটনা কেউ মানতে পারে না। কিন্তু বাংলার যাঁরা অপমান করেন, তাঁদের বলব শুভবুদ্ধির উদয় হোক।” মহালয়ার পর থেকে টানা কলকাতা ও জেলার পুজো উদ্বোধন করে চলেছেন মমতা। শুক্রবারও কলকাতায় ২৫টি পুজোর উদ্বোধন করেছেন। পাশাপাশি ভার্চুয়ালি জেলার ৪০০ পুজোর উদ্বোধনও করেছেন। পুজো উদ্বোধনের মাঝেই পড়ুয়াদের সুখবর শুনিয়েছেন তিনি। শুক্রবার থেকেই ১৬ লক্ষ পড়ুয়ার ত্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে স্মার্ট ফোন ও ট্যাব কেনার ১০ হাজার টাকা। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা এই টাকা পাচ্ছেন। এর জন্য সরকারের মোট বরাদ্দ হয়েছে ১৩৩ কোটি ৫৭ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা।

উল্লেখ্য, মাদ্রাসা ও সংখ্যালঘু স্কুলগুলির পড়ুয়ারাও এই সুবিধা পেয়ে থাকে। বাজেট পেশের সময় বিধানসভায় জানানো হয়েছিল, এর জন্য অতিরিক্ত ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য। শুক্রবার প্রথমেই দক্ষিণ কলকাতার একডালিয়া এভারপ্রিনের পুজোমণ্ডপে যান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের পুজো বলেই যা পরিচিত। তাঁর স্ত্রী ছন্দবাণী মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে এই পুজো উদ্বোধন করলেন তিনি। সেইসঙ্গে হয়ে পড়েন স্মৃতিমেদুর। “এখানে এলেই আমার অনেক স্মৃতি ভেসে আসে। আমার খারাপ, লাগে দুঃখ লাগে। হৃদয়ের দুঃখ উপলব্ধি করি, সুব্রতদা নেই ভাবতে পারি না। যখন কলেজে রাজনীতি করতাম তখন প্রত্যেকদিন সকালবেলা সুব্রতদার বাড়ি আসতাম। ছাত্র রাজনীতির সেই দিন আমি কোনও দিন ভুলব না। তিনি এত ভাল মানুষ ছিলেন দুঃখের মধ্যেও সকলকে হাসিয়ে ছাড়তেন। এই ধরনের মানুষ চলে গেলে আর ফিরে আসে না। বেঁচে থাকাকালীন নবানে গিয়ে বসে থাকতেন। জিজ্ঞেস করতেন, কবে এভারপ্রিনে আসব পুজোর সময়। আজ সবই আছে শুধু প্রাণের মানুষটা নেই। ন্যারেটিভ পাল্টানো আজকালকার দিনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। আপনারা আমায় দেখবেন আমার গলা শুনতে পাবেন কিন্তু লোকটা আমি নই! তাই এখন খুব সাবধানে সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলতে হবে”, জানান তিনি।




