নরেন্দ্র মোদী দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে বারবার ফুটে উঠেছে কর্মসংস্থানের বেহাল চিত্র। প্রকট হয়েছে বেকারত্ব। এই আবহেই ফের উঁকি দিল উদ্বেগের ইঙ্গিত। প্রথমে ভোট অন অ্যাকাউন্ট এবং পরে বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রী দফায় দফায় দাবি করেছেন, সাড়ে ১১ লক্ষ কোটি টাকা পরিকাঠামো খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে। শুধুমাত্র পরিকাঠামো খাতে এই বিপুল বরাদ্দ করার উদাহরণ দেখিয়ে বাজেটে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের বরাদ্দ। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, পরিকাঠামো নির্মাণে এত বেশি কর্মসংস্থান হবে যে, এবার আর ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের চাহিদা বেশি হবেই না! অথচ বাস্তব চিত্রটা পুরো বিপরীত। দেখা যাচ্ছে, সেই পরিকাঠামো খাতে ব্যয় হচ্ছেই না বললেই চলে।
সরকারি সূত্রের খবর, রাজস্ব ঘাটতি কমানো। বছরের পর বছরে ঘাটতি বেড়েই চলেছে। আর সেটাই প্রভাব ফেলছে জিডিপি বৃদ্ধি হারের পরিসংখ্যানে। একদিকে আয় কম। ব্যয় বেশি। অন্যদিকে রপ্তানি কম। আমদানি বেশি। অর্থাৎ রাজস্ব এবং বাণিজ্য উভয় ঘাটতিই ঊর্ধ্বগামী। পরিকাঠামো খাতে খরচে সরকার কার্যত হাত গুটিয়ে রেখেছে। ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টিতে নেই যথেষ্ট বরাদ্দ। তার উপর আবার রাজ্যে রাজ্যে বিভিন্ন কারণে ১০০ দিনের কাজের পেমেন্টও আটকে। এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সময়সীমায় রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে সাড়ে ৪ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। ১২ কোটি টাকা আয়। সাড়ে ১৬ কোটি টাকা হয়েছে ব্যয়। এই রাজস্ব ঘাটতি পূরণের জন্য বাকি প্রতিটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে মোদী সরকার। যার কোপ পড়েছে পরিকাঠামো নির্মাণে। ফলত এবার গ্রাম ও শহরে বেকারত্ব বিপুলভাবে বাড়তে চলেছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।




