কলকাতা: গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের চলাচল ব্যাহত হলে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ ভাবছেন জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশই এই পথ দিয়ে আসে। এর জেরে কিছুদিন নতুন করে এলপিজি-র ডবল সিলিন্ডারের সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনও গ্রাহক দ্বিতীয় সিলিন্ডারের আবেদন করলেও তা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের।
ভারতে ঘরে ঘরে ব্যবহৃত এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থাই বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই তেল সংস্থাগুলোর তরফে কিছুদিন নতুন করে এলপিজি-র ডবল সিলিন্ডারের সংযোগ না দেওয়ার নির্দেশ এসেছে বলে খবর। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি থাকলেও গ্যাসের জোগানে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেকারণেই এই নির্দেশ বলে জানা গিয়েছে। এটি স্বাভাবিক হতে এখনও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলেই গ্যাস ডিলারদের থেকে জানা গিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে নির্ধারিত জাহাজ দেরিতে পৌঁছলে জোগানে সমস্যা দেখা দিতে পারে এসবই নানা আতঙ্কে মানুষ আগেভাগে সিলিন্ডার বুকিং শুরু করে দিচ্ছেন, যার জেরে এই মজুত সিলিন্ডার দ্রুত কমে যেতে পারে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন শহরের ডিস্ট্রিবিউটররা জানিয়েছেন, অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত সিলিন্ডার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তাই অংখ্য মজুত না করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অপরিশোধিত তেল বা এলএনজির তুলনায় এলপিজির উৎস সীমিত এবং এর মজুতও তুলনামূলকভাবে কম। মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। এর অধিকাংশই উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আসে এবং প্রায় সব জাহাজই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে পৌঁছয়। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০ দিনের এলপিজি মজুত রয়েছে।




