কলকাতা: একাধিক সংস্কারের কাজের জন্য বন্ধ করা হয় কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন। সেই সময়েই জানানো হয়, ৮-৯ মাসের মধ্যে স্টেশনটি নতুন করে তৈরি হবে। কিন্তু ৫ মাস কেটে গেলেও কাজ এখনও এগোয়নি। একসময়ের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও গজিয়েছে জঙ্গলও।(Kolkata Metro) এই অবস্থায় ব্লু লাইনে আবার কবে যাত্রীরা কবি সুভাষ পর্যন্ত মেট্রোয় চড়ে যেতে পারবেন, তা অজানা।
ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে বিড়ম্বনায় মেট্রো কর্তৃপক্ষও। প্ল্যাটফর্মের পিলারে ফাটল-সহ একাধিক পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে গোটা স্টেশনটিকে ভেঙে নতুন করে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সেই কাজ থমকে রয়েছে। এখনও ভাঙাই হয়নি স্টেশন!
কলকাতা মেট্রোর(Kolkata Metro) তরফে জানানো হয়েছিল, আট-ন’মাসের মধ্যে স্টেশন তৈরির কাজ শেষ হয়ে ফের মেট্রো ছুটবে দক্ষিণেশ্বর থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত। কিন্তু তারপর কেটে গিয়েছে পাঁচ মাসের বেশি সময়। সেখানে কাজের যা গতি, তাতে আর মাস তিনেকের মধ্যে স্টেশন ভেঙে আবার গড়ার কাজ শেষ হবে তা আশা করছেন না মেট্রোর কোনও কর্তাই। কিন্তু কী কারণে কাজে ঢিলেমি তা নিয়ে মুখ খুলছে না কর্তৃপক্ষ।
এক আধিকারিক জানান, স্টেশন ভাঙার কাজই এখনও হয়নি। কবে স্টেশন পুরো ভেঙে আবার নতুন করে তৈরি হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে মাস তিনেকের মধ্যে তা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। এখন প্ল্যাটফর্মের মাথার উপরের ছাউনি খোলার পর পড়ে রয়েছে প্ল্যাটফর্মের কাঠামো।
এই স্টেশনটি মাটির উপরে প্রায় ২১টি পিলারের উপর তৈরি। গত ২৮ জুলাই চারটি পিলারে ফাটল স্পষ্ট হয়। বসে যেতে থাকে স্টেশন। ফলে রাতারাতিই মেট্রো চলাচল বন্ধ করে তা মেরামতির কাজ শুরু হয়। স্টেশনের কাঠামো ফের পরীক্ষা করতে সমীক্ষা শুরু করে দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি সংস্থা। গোটা কাজে খরচ হবে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা। মেট্রোরেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এস এস কান্নান বলেন, “গোটা পরিস্থিতি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। কবে এই কাজ শেষ হবে তা এভাবে বলা সম্ভব নয়।”
প্রসঙ্গত, নিরাপত্তার স্বার্থে গত ২৮ জুলাই থেকে কবি সুভাষ স্টেশন পর্যন্ত মেট্রো যাচ্ছে না। ব্লু লাইনের দক্ষিণ প্রান্তে শেষ স্টেশন হিসাবে এই মেট্রো স্টেশনটি গড়িয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা সংযোগকারী। এখানে প্রচুর মানুষের যাতায়াত। স্টেশনটি বন্ধ হওয়ায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন দীর্ঘদিন ধরেই। নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশন শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দু’বার অটো বদলাতে একদিকে যেমন খরচ বাড়ছে, বেশি লাগছে সময়ও। যাত্রীদের মনে প্রশ্ন, ফের কবে চালু হবে এই মেট্রো স্টেশনটি।



