এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্কর হত্যার ঘটনায় এল নতুন মোড়। গ্রেফতার করা হল সিপিএম নেতা আনিসুর রহমান লস্করকে। বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। এফআইআরে নাম ছিল এই সিপিএম নেতার। পুলিশ জানিয়েছে, সইফুদ্দিন খুন হওয়ার পর থেকে পলাতক ছিলেন এই সিপিএম নেতা। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। সইফুদ্দিন খুনে জড়িত সন্দেহে ওইদিনই জনরোষের মুখে পড়ে প্রাণ যায় সাহাবুদ্দিন নামে একজনের। গ্রেফতার করা হয় শাহরুল শেখ নামে এক দুষ্কৃতীকে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকও করা হয় বেশ কয়েকজনকে। তাদের জেরা করেই পুলিশের ধারণা, সইফুদ্দিন খুনে মাস্টার মাইন্ড আনিসুরই।
স্বাভাবিকভাবেই, এরপর শুরু হয় আনিসুরের খোঁজ। দলুয়াখাঁকিরই বাসিন্দা আনিসুর। পুলিশ তার বাড়িতে হানা দিতেই বাড়ি ছেড়ে পালায় সে। তারপর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন ট্র্যাক করা শুরু করে পুলিশ। একবার বাসন্তীতে তার অবস্থান টের পেয়ে সেখানে হানা দেয় পুলিশ। কিন্তু খোঁজ মেলেনি। পরবর্তীতে নদিয়ার রানাঘাটে তাঁর মোবাইল ফোনের লোকেশন দেখে সেখানে যায়। রানাঘাট থেকেই গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয় আনিসুরকে। সোমবার ভোরে বামনগাছি অঞ্চলের তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্করকে গুলি করে মোটরবাইকে আসা আততায়ীরা। তাঁর নিজের বাড়ির খুব কাছেই এই ঘটনা ঘটে। ভোরবেলা নামাজ পড়তে মসজিদে যাচ্ছিলেন তিনি। আর সেই খুনের খবর জানাজানি হতেই বাঙাল বুড়ির মোড় থেকে চার কিলোমিটার দূরে দোলুয়াখাঁকি লস্করপাড়ার একাধিক বাড়িতে পরপর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় জয়নগরের দোলুয়াখাঁকি গ্রাম। পরের দিন সুজন চক্রবর্তী-শমীক লাহিড়ী-সহ বামপন্থী গ্রামে ঢুকতে গিয়ে পড়েন প্রবল বিক্ষোভের মুখে।