কলকাতা: ভোটের আগে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের টাকা বিতরণের জন্য তৎপর রাজ্য সরকার। বাজেট ঘোষণার পর থেকেই প্রকল্পের আওতায় আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে মাসে ১৫০০ টাকা পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে। যদিও সব আবেদনকারী একসঙ্গে টাকা পাচ্ছেন না, তবুও ভোটের আগে যত বেশি সম্ভব টাকা পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনের লক্ষ্য।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার তরুণ–তরুণী যুবসাথী প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন। তারা কেউ কেউ মাধ্যমিক পাস হলেও এখনও স্থায়ী চাকরি পাননি। তাই দ্রুত আবেদন যাচাই ও তথ্য নথিভুক্তকরণের কাজ চলছে। বৃহৎ সংখ্যক আবেদন দ্রুত যাচাই ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য কলকাতা পুরসভা চারটি সংস্থাকে ডেটা এন্ট্রির কাজের দায়িত্ব দিয়েছে। অনলাইনে প্রায় ৭৩ হাজার এবং অফলাইনে প্রায় ১ লাখ ৫১ হাজার আবেদন জমা হয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের জন্য সংস্থাগুলো তৎপর।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ধর্নামঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন, “১ এপ্রিল থেকে প্রকল্প চালু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আজ অর্থাৎ শনিবার থেকেই টাকা বিতরণ শুরু হচ্ছে। যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ফেব্রুয়ারি থেকেই দেওয়া হয়েছে।” তাঁর কথা মতো দ্রুত কাজড শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা৷
এই প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বেকার যুবক–যুবতীরা মাসে ১৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। এটি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বা চাকরি পাওয়া পর্যন্ত চলবে। তবে যারা ইতিমধ্যেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তারা যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না।
সব আবেদনকারী একসাথে টাকা পাচ্ছেন না। অনলাইনে আবেদনকারীরা প্রথম ধাপে টাকা পাচ্ছেন। অফলাইনে আবেদনকারীদের ডেটা এন্ট্রি ও যাচাই চলছে। পুরসভা পোর্টালে নতুন ট্র্যাকিং অপশন চালু হয়েছে, যাতে আবেদনকারীরা ফর্মের বর্তমান অবস্থা জানতে পারেন। রাজ্যজুড়ে প্রায় ৮৪ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন। ব্যাংক ভেরিফিকেশন ও তথ্য যাচাইয়ের কারণে কিছুটা সময় লাগছে। প্রশাসনের লক্ষ্য ভোটের আগে যত বেশি সম্ভব আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে যুবসাথীর টাকা পৌঁছে দেওয়া।




