মধ্যপ্রদেশ: এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে মধ্যপ্রদেশে৷ অভিযোগ, এক কিশোরকে পিটিয়ে খুন করার পর তার রক্ত পান করেন অভিযুক্ত। এমনকি মৃতদেহ থেকে মাংস কেটে খাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে দামোহ জেলার সামান্যা গ্রামে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত কিশোরের নাম ভরত বিশ্বকর্মা। সে তার দিদির শ্বশুরবাড়িতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিল। সেই সময় আচমকাই গুড্ডা পটেল নামে এক যুবক তার উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে একটি লোহার রড দিয়ে ভরতের মাথায় জোরে আঘাত করা হয়। সেই আঘাতে ভরত রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে।
এরপরও থামেনি হামলা। অভিযোগ, অভিযুক্ত হাতুড়ি দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকে কিশোরের মাথায়। ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হয়ে পড়ে ভরত। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, ভরতের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরই অভিযুক্ত আরও ভয়ঙ্কর আচরণ করতে শুরু করে। অভিযোগ, মৃতদেহ থেকে বের হওয়া রক্ত পান করতে থাকে সে। এমনকি ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের অংশ কেটে মাংস খাওয়ার চেষ্টা করে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে গ্রামবাসীরা আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে যান। অনেকেই দূর থেকে পুরো ঘটনাটি দেখছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, কেউ কেউ সেই সময় মোবাইলে ভিডিও তুলতেও ব্যস্ত ছিলেন। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযুক্তের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় কেউ এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাননি।
এদিকে কয়েকজন গ্রামবাসী পুলিশে খবর দেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করলে গ্রামবাসীরা তাকে ধাওয়া করে ঘিরে ফেলেন। সেই সময়ও সে ধারালো অস্ত্র নিয়ে লোকজনের উপর হামলার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর তাকে গ্রেফতার করে।
এই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জনসমক্ষে এমন নৃশংস হামলা হলেও কেন কেউ কিশোরকে বাঁচাতে এগিয়ে এল না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং হত্যার আসল কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




