আলিপুরদুয়ার: বহু বছরের অনিশ্চয়তা ও দুঃসহ জীবন কাটিয়ে অবশেষে পাকা বাড়ির স্বপ্ন পূরণ হল আলিপুরদুয়ার জেলার সাতালি বনবস্তি এলাকার বাসিন্দা প্রেমকুমার থাপার। রাজ্য সরকারের বাংলার বাড়ি প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি ও তাঁর পরিবার এখন পাকা দু’কামরার ঘরে নিরাপদে বসবাস করছেন। নতুন ঘর পেয়ে পরিবারে ভরেছে আনন্দ ও স্বস্তি।
সাতালি এলাকা মূলত জঙ্গলঘেরা। এলাকার একদিকে রয়েছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের বিস্তীর্ণ বনভূমি, অন্যদিকে রয়েছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের জঙ্গল। ফলে এখানকার বাসিন্দাদের জীবনে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি প্রায়ই সমস্যা সৃষ্টি করে। হাতি, শূকর বা অন্যান্য প্রাণী ঘুরে বেড়ানো স্থানীয়দের আতঙ্কের কারণ।
প্রেমকুমার থাপা এতদিন পরিবার নিয়ে একটি ভাঙাচোরা এক কামরার ঘরে বসবাস করতেন। ঘরের ছাউনি ছিল দুর্বল ও জীর্ণ। বর্ষার সময় বৃষ্টির জল চুঁইয়ে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করত। পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ঘরে প্লাস্টিক টাঙিয়ে রাখতেন, তবুও ঝড়-বৃষ্টির দিনে জীবন কাটাতেন ভয়ে।
বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি রাতের বেলা আতঙ্কের সৃষ্টি করত। সামান্য শব্দে ঘরে সবাই সতর্ক হয়ে যেত। পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে রাখার চিন্তায় প্রেমকুমার প্রায়ই উদ্বিগ্ন থাকতেন। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা তাঁর এই সমস্যার কথা জানতেন। পরে রাজ্য সরকারের বাংলার বাড়ি প্রকল্প চালু হলে তাঁরা উদ্যোগ নিয়ে প্রেমকুমারের নাম প্রকল্পের সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অবশেষে তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা পান।
নতুন ঘর পেয়ে প্রেমকুমার জানান, এতদিন খুব কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছিল। বর্ষাকালে সমস্যা সবচেয়ে বেশি হত। এখন পাকা বাড়ি পেয়ে তিনি খুব খুশি। তাঁর মতে, এই বাড়ি শুধু মাথা গোঁজার জায়গা নয়, বরং পরিবারের জন্য নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের আশার প্রতীক।




