কলকাতা: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যে প্রথমবার সরকারি হাসপাতালে সেলাইবিহীন বা সিউচারলেস হার্ট ভালভ প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইপিজিএমইআর) ও এসএসকেএম হাসপাতালের কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জারি (সিটিভিএস) বিভাগের চিকিৎসকরা এই জটিল অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেছেন।
মুর্শিদাবাদের বেজপাড়ার ৩৯ বছর বয়সী নাজমা বিবি রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ এবং সিভিয়র অ্যাওটিক স্টেনোসিসে ভুগছিলেন। অ্যাওটিক ভালভ সংকুচিত হওয়ায় শরীরে রক্তপ্রবাহ সীমিত হয়ে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা কমছিল। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে তাঁর এই অত্যাধুনিক সার্জারি সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে সম্পন্ন হয়েছে।
অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন সিটিভিএস বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ শান্তনু দত্ত, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডাঃ শিল্পা বসুরায়, ডাঃ দেবতনু হাজরা, ডাঃ অপর্ণা বসুমাতারি, ডাঃ দেবর্পিত মুখোপাধ্যায়, ডাঃ উজ্জয়িনী ঘোষাল ও ডাঃ বিক্রমজিৎ সাহা। অ্যানাস্থেশিয়া টিমে ছিলেন ডাঃ চৈতালি দাশগুপ্ত, ডাঃ কাকলি ঘোষ, ডাঃ সৌরভ দাস, ডাঃ আনমোল সিং এবং ডাঃ রুশনা শর্মা।
এই সিউচারলেস হার্ট ভালভের বাজারমূল্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। বেসরকারি হাসপাতালে একই সার্জারির খরচ ২০–২৫ লক্ষ টাকা হতে পারত। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে সরবরাহ হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও বহু রোগী সুবিধাভোগী হবেন। অস্ত্রোপচারের জন্য মাত্র ৩০ মিনিট সময় লাগে, তবে পুরো প্রক্রিয়াটি দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি সাধারণ মানুষের কাছে আধুনিক ও জটিল হৃদরোগ চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প সাধারণ মানুষের জন্য জীবন রক্ষাকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে। নাজমা বিবি বর্তমানে সুস্থ্য এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। স্বাস্থ্যসাথী কেবল খরচ কমাচ্ছে না, বরং জটিল ও আধুনিক চিকিৎসা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এটি এক নতুন দিগন্তের সূচনা।




