ঝাড়খণ্ড: হাই কোর্টের এক মহিলা আইনজীবীর পরিবারের মধ্যে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় স্তব্ধ রাঁচি। নিজের পুত্র ও কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই আইনজীবী।(Tragic Incident) এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর পুত্রের। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আইনজীবী এবং তাঁর ১৪ বছরের নাবালিকা কন্যা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি(Tragic Incident) রাঁচীর অশোক নগর এলাকার একটি আবাসিক বাড়িতে। শুক্রবার রাতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। পরে শনিবার সকালে বাড়ির ভিতর থেকে তিনজনকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা যুবক মিহির আখৌরিকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত যুবক মিহির আখৌরি পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ছিলেন। পড়াশোনা ও কর্মসূত্রে তিনি দীর্ঘদিন কলকাতায় ছিলেন। সম্প্রতি রাঁচীতে নিজের বাড়িতে ফিরেছিলেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি বেসরকারি সংস্থায় তিনি চাকরিও পেয়েছিলেন। সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল বলেই মনে হচ্ছিল পরিবারের বাইরের মানুষদের। মিহিরের মা স্নেহা আখৌরি ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের একজন কর্মরত আইনজীবী। পেশাগত জীবনে তিনি যথেষ্ট পরিচিত মুখ। এমন একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবীর পরিবারের মধ্যে কী কারণে এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, স্নেহা আখৌরি এবং তাঁর নাবালিকা কন্যা বিষাক্ত কোনও পদার্থ সেবন করেছিলেন। তবে মিহির কীভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে স্নেহা আখৌরি ও তাঁর কন্যা রাঁচীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, দু’জনের অবস্থাই এখনও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আইসিইউ-তে রেখে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলে পুলিশ তাঁদের বক্তব্য নেবে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বাড়ি থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পারিবারিক টানাপোড়েন, মানসিক অবসাদ, আর্থিক সমস্যা বা অন্য কোনও ব্যক্তিগত কারণ এই ঘটনার পিছনে রয়েছে কি না, সেই সব দিকও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।




