নিপা ভাইরাস(Nipah Virus) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। তবে এটি নতুন কোনও ভাইরাস নয়। বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং প্রতিবেশী দেশগুলিতে এই ভাইরাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও অতীতে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।
গত কয়েক বছরে কেরল, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, মায়ানমার ও থাইল্যান্ডে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সম্প্রতি নদিয়ার কল্যাণী এইমস-এর ভাইরোলজি ল্যাবরেটরিতে দু’জন স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। সেই ঘটনার পর নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং শুরু হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিপা ভাইরাস একটি জুনোটিক সংক্রমণ। অর্থাৎ এই ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। মালয়েশিয়ায় প্রথম সংক্রমণের সময় শূকর ছিল মধ্যবর্তী বাহক। তবে ভারতে মূলত বাদুড় থেকেই এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাদুড়ের লালা, মল ও প্রস্রাবের মধ্যে নিপা ভাইরাসNipah Virus) থাকে। বিশেষ করে খেজুরের রস এবং গাছের ফল এই ভাইরাস ছড়ানোর বড় উৎস। শীতকালে বাদুড় খেজুরের রস খাওয়ার সময় তাতে লালা বা প্রস্রাব ফেলে দেয়। সেই রস কেউ কাঁচা খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
এছাড়া আধখাওয়া ফল মাটিতে পড়ে থাকলে সেটিও বিপজ্জনক। শুয়োরের মাংস ঠিকমতো রান্না না করে খেলে এবং শুয়োরে মুখ দেওয়া সবজি খেলে মানুষের শরীরে ভাইরাস ঢুকে পড়তে পারে। মানুষের শরীরের রসের মাধ্যমেও এই রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
নিপা ভাইরাসের লক্ষণ হল জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া, পেশিতে ব্যথা, কাশি, গলা ভাঙা, শ্বাসকষ্ট, বমি, মানসিক বিভ্রান্তি, অচেতনতা, এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কের প্রদাহ৷ প্রথমদিকে সাধারণ জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিলেও খুব দ্রুত রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে যায়।
আরটি ও পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে নিপা ভাইরাস শনাক্ত করা যায়। নাক ও গলা থেকে নমুনা নিয়ে এই পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া রক্ত, ইউরিন ও সেরিব্রাল স্পাইনাল ফ্লুইড দিয়েও পরীক্ষা সম্ভব।




