আলিপুরদুয়ার: চা শিল্প রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি কার্যত কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এমনই অভিযোগে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে উত্তরবঙ্গের চা-বাগান মহলে।(Tea Industry) চা বলয়ের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সহায়তার আশ্বাস শোনা গেলেও, বাস্তবে কেন্দ্রীয় ভর্তুকির বিপুল অঙ্ক এখনও আটকে রয়েছে। তাই চাপ বাড়ছে ডুয়ার্স, তরাই ও দার্জিলিংয়ের বহু চা-বাগান।
চা-বাগানের উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে পুরনো ও অনুৎপাদনশীল চা-গাছ নির্দিষ্ট সময় অন্তর উপড়ে ফেলে নতুন চারা রোপণ করা বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়াকেই আপরুটিং ও রিপ্ল্যান্টিং বলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে এই কাজ চলত। কিন্তু চা-বাগান মালিকদের অভিযোগ, গত চার বছর ধরে এই প্রকল্প কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।(Tea Industry) ফলে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ভর্তুকি আজও বকেয়া পড়ে আছে।
কেন্দ্রের বকেয়ার কারণে উৎপাদন কমছে৷ যার ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে চা-বাগান শ্রমিকদের জীবনে। একাধিক বাগানে শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড জমা পড়ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। পিএফ বকেয়া থাকায় অনেক বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলির আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে খরচ বাঁচাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথেও হাঁটতে পারে বাগান কর্তৃপক্ষ।
ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডুয়ার্স শাখার সেক্রেটারি রাম অবতার শর্মা বলেন, “নতুন চা গাছ লাগানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আগে কেন্দ্রীয় সরকার টি বোর্ডের মাধ্যমে এই খাতে ভরতুকি দিত। এখন সেই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিল্পটাই টালমাটাল হয়ে পড়েছে। তার উপর কেজি প্রতি চায়ের দাম প্রায় ৩০ টাকা কমে গিয়েছে।”
তরাই ইন্ডিয়ান প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্তা জানান, “নতুন গাছ না লাগালে উৎপাদন বাড়ানো অসম্ভব। বারবার আবেদন করেও কেন্দ্রীয় সরকার টি বোর্ড কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”
চা শিল্পমহলের মতে, অবিলম্বে কেন্দ্রীয় ভর্তুকি মিটিয়ে আপরুটিং ও রিপ্ল্যান্টিং প্রকল্প পুনরায় চালু না হলে উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের ভবিষ্যৎ এবং লক্ষাধিক শ্রমিকের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়বে৷




