পূর্ব মেদিনীপুর: ফের প্রকাশ্যে এল রেলের(Railways) চরম গাফিলতি৷ হাওড়া থেকে দিঘাগামী তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেসের সামনের হুকে আটকে এক মহিলার মৃতদেহ নিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করল ট্রেন। কাঁথি স্টেশনে পৌঁছনোর পর এই ভয়াবহ দৃশ্য নজরে আসে রেল কর্তৃপক্ষের। মুহূর্তে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
রেল ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম ছবিরানি বেরা। বয়স ৫৯ বছর। তিনি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি থানার কৃষ্ণনগর এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, হাওড়া-দিঘাগামী তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস খেজুরি সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছনোর সময় তিনি আচমকাই ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। সেই সময়েই তিনি ট্রেনের সামনের অংশে আটকে যান এবং দুর্ঘটনার পর তাঁর দেহটি ইঞ্জিনের হুকে ঝুলে যায়।
দুর্ঘটনার পরও ট্রেনটি সঙ্গে সঙ্গে থামানো হয়নি।(Railways) চালক বা রেল কর্মীদের নজরে বিষয়টি না আসায়, মৃতদেহটি সামনের হুকে ঝুলন্ত অবস্থায় নিয়েই দ্রুত গতিতে ট্রেনটি কাঁথির দিকে এগিয়ে যায়। পথ চলাকালীন ট্রেনের সামনে ঝুলে থাকা দেহটি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে পড়তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে এই দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন।
অবশেষে কাঁথি স্টেশনে পৌঁছনোর পর রেল কর্মীদের নজরে আসে ঘটনাটি। সঙ্গে সঙ্গে জিআরপি ও আরপিএফকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ও রেল আধিকারিকদের সহায়তায় মৃতদেহটি উদ্ধার করে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে ছবিরানি বেরার বড় ছেলে একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি। ছেলের অকালমৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
তবে পুলিশ এখনও ঘটনাটিকে আত্মঘাতী বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি আত্মহত্যা না কি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। মৃতার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ট্রেনের চালক ও সংশ্লিষ্ট রেল কর্মীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।




