পুরুলিয়া: ২০১১ সালের আগে পুরুলিয়ার অশান্ত অতীতের ছবি তুলে ধরে সভা থেকে বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।(Abhishek Banerjee) অতীত–বর্তমানের তুলনা টেনে উন্নয়ন ও শান্তির খতিয়ান তুলে ধরে এবারের ভোটে পুরুলিয়াকে বিজেপি শূন্য করার ডাক দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরুলিয়ার কাশীপুরের ‘রণসংকল্প সভা’ থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার তিনি(Abhishek Banerjee) সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘‘ভারতীয় জুমলা পার্টিকে ৫০-এর গণ্ডি পার করতে দেব না, কথা দিয়ে গেলাম।’’ একইসঙ্গে পুরুলিয়ার ৯টি বিধানসভা আসনেই জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিলেন তিনি। এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আগামী নির্বাচনে ৯-০ করতে হবে। পুরুলিয়ার আসন সংখ্যা হাওড়া আর দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে ছাপিয়ে যেতে হবে।’’
যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কথা মনে করানোর পাশাপাশি জঙ্গলমহলে একসময়কার মাওবাদী নাশকতার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেকের দাবি, সেই ভয়াল দিন পেরিয়ে আজ এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরেছে। কটাক্ষের সুরে অভিষেক বলেন, বাম আমলে পুলিশের এমন অবস্থা ছিল যে সকাল ১০টাতেও থানা থেকে বেরোতে ভয় পেত। আজ সেই ছবি বদলেছে।
অভিষেক স্মরণ করান, ১৯৯৮ সালে ঝালদায় তৃণমূলের জেতা প্রধানকে সিপিএমের হাতে খুন হতে হয়েছিল। প্রশ্ন তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর কটি মাওবাদী নাশকতা হয়েছে, কজন মানুষের প্রাণ গিয়েছে? অভিষেকের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে আজও মাওবাদী-সিপিএমের বোমা-বন্দুকের নীচে মাথা নিচু করেই বাঁচতে হত।
তারপরেই মোদী-শাহকে নিশানা করে আরও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর কটাক্ষ, “মোদীবাবু, অমিত শাহ, জ্যোর্তিময় সিং মাহাত (পুরুলিয়ার সাংসদ)—যাঁরা আজ বড় বড় ভাষণ দেন, ২০১১ সালের আগে পুরুলিয়ার মাটিতে তাঁদের টিকিটা খুঁজে পাওয়া যেত না। আজ এসে শান্তি-শৃঙ্খলার কথা বলছেন।”
বাম থেকে বিজেপিতে রূপান্তর নিয়েও আক্রমণ শানান তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, পুরুলিয়ায় যাঁরা বাম ছিলেন, তাঁরাই এখন বিজেপি। ট্রাফিক সিগন্যালের উদাহরণ টেনে অভিষেক বলেন, লাল মানে থামো, গেরুয়া মানে ধীরে চলো, আর সবুজ মানে এগিয়ে চলো। বাম আমলের ‘হার্মাদ’দেরই এখন বিজেপির ‘জল্লাদ’ বলে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “নতুন বোতলে পুরনো মদ।” নিজের দাবির স্বপক্ষে একাধিক প্রাক্তন সিপিএম নেতার নামও উল্লেখ করেন তিনি, যাঁরা বর্তমানে বিজেপির নেতৃত্বে।
পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোর্তিময় সিং মাহাতকে সরাসরি নিশানা করেন অভিষেক। মোদী সরকারের ১১ বছরে সাংসদ হিসেবে এলাকার জন্য কী উন্নয়ন হয়েছে—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিশেষ করে রেলের হালচাল নিয়েও কটাক্ষ করেন। চক্রধরপুর এক্সপ্রেস, পুরুলিয়ার এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলির নিয়মিত দেরিতে চলার প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, “একটা ট্রেনই যদি সময়ে হাওড়া পৌঁছাতে না পারে, তা হলে এত বছরে সাংসদ কী করলেন? ট্রেন লেটের সমস্যা নিয়েও যাঁর কোনও উদ্যোগ নেই, তিনি নাকি উন্নয়নের কথা বলবেন?”
চতুর্থবারের তৃণমূল সরকার গঠনে পুরুলিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অভিষেক বলেন, “আমি এক কথার ছেলে। জানি এখানকার মানুষের অনেক দাবি এখনও পূরণ হয়নি। তবে কথা দিয়ে যাচ্ছি, পুরুলিয়ার সব আসনে তৃণমূল জিতলে ৬ মাসের মধ্যে আপনাদের সব দাবিপূরণের চেষ্টা করব।”




