দিঘা: ২০২৬ সালকে স্বাগত জানাতে বুধবার রাত থেকেই ওল্ড দিঘা ও নিউ দিঘার রাজপথ মায়াবী আলোর সাজে সেজে ওঠে। সুরের মূর্ছনায় মেতে ওঠেন হাজার হাজার পর্যটক, গভীর রাত পর্যন্ত রাজপথে চলে উৎসবের আমেজ। ঠিক রাত বারোটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে দিঘাজুড়ে শুরু হয় আতসবাজির ঝলকানি। উৎসবের সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটা থেকে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার দর্শনের জন্য মন্দিরের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ান দর্শনার্থীরা।(Digha Jagannath Dham) বছরের প্রথমদিন দিঘার জগন্নাথধামে মানুষের ঢল। জানা যাচ্ছে, একদিনেই এক লক্ষের বেশি দর্শনার্থী পুজো দিয়েছেন।
এতদিন দিঘা মানেই ছিল সমুদ্রস্নান ও পর্যটন, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে গড়ে ওঠা জগন্নাথধাম সৈকতনগরীতে তীর্থস্থানের যোগসাজশ ঘটিয়েছে। এবার সমুদ্রের ঢেউ নয়, বরং পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে দিঘার জগন্নাথ মন্দির।(Digha Jagannath Dham) বছরের প্রথম দিনের বিপুল ভিড়ই তার প্রমাণ। বছরের শেষদিন শেষ হতেই পরের দিনের ভোরেই পর্যটকরা প্রথমে সমুদ্রতীরে ভিড় জমান বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখার জন্য। সূর্যপ্রণাম সেরেই পা বাড়ান জগন্নাথ মন্দিরের দিকে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়তে থাকে। মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, বিকেল চারটে পর্যন্ত এক লক্ষ দর্শনার্থী জগন্নাথদেবের দর্শন করেছেন। কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা দিঘা জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সদস্য রাধারমণ দাস বলেন, “বছরের প্রথম দিন বিকেল পর্যন্ত এক লক্ষ দর্শনার্থী জগন্নাথদেবের দর্শন সেরেছেন। ইতিমধ্যেই বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশ থেকে প্রায় ২৫ হাজার দর্শনার্থী এই মন্দিরে এসে দর্শন করেছেন। ভোর থেকেই মন্দিরে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গত এক মাস ধরে দর্শনার্থীদের জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টিফিন, মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজের অন্নপ্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই অন্নপ্রসাদ পেতেও লম্বা লাইনে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে অসংখ্য পর্যটককে।”
প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে চলায় খুশি মন্দির পরিচালন কমিটির সদস্যরাও। উদ্বোধনের মাত্র আট মাসের মধ্যেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছে দিঘার এই জগন্নাথধাম। অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শনার্থীর সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়েছে, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মন্দিরের আয়ও। সমুদ্রের গর্জন আর ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি মিলেমিশে ২০২৬ সালের প্রথম দিনটি দিঘার ইতিহাসে অনন্য নজির তৈরি করেছে।




