আর জি কাণ্ডের বিচার চেয়ে প্রতিবাদী আন্দোলন কি আদৌ অরাজনৈতিক? আরও একবার মাথাচাড়া দিল সেই সন্দেহ। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, বাম এবং অতিবাম রাজনীতির হাঁ-মুখ গ্রাস করে নিয়েছে আন্দোলন মঞ্চ। বহু জুনিয়র ও সিনিয়র চিকিৎসকই এখন রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, “এই আন্দোলন আমরা চাইনি। অভয়ার ধর্ষণ-খুনের দ্রুত বিচার ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এখন সেটাই পিছনের সারিতে চলে গিয়েছে। চলছে শুধু স্বার্থসিদ্ধির রাজনীতি।” তাঁদের মতে, পুরো আন্দোলনটাই হাইজ্যাক করেছে অতিবাম রাজনীতি। তাই দিশা হারাচ্ছে প্রতিবাদ। “এমন একটা চার্জশিট দেওয়ার পরও সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে যৌথ ফ্রন্টের একটা কর্মসূচি হবে না? সিজিও পর্যন্ত একটা মিছিল হবে না? ৫৫ দিন ধরে ওরা কী করেছে? খুনের মোটিভ এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ, সে ব্যাপারে কিছুই জানা গেল না। এখন আমাদের অনশনের কর্মসূচিতে সমর্থন দিতে হচ্ছে। কেন এই অনশন? রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে? রাজ্য কি আমাদের দাবি মানেনি? আলোচনায় বসেছে। দাবিও মেনেছে। এবার পরিকাঠামো তো একদিনে হয়ে যাবে না। সে জন্য একটু সময় দিতেই হয়। ওরা যে ডেডলাইন দিয়েছে, সেটা পর্যন্ত অপেক্ষা করব না? ওই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে আন্দোলন তীব্র করার সুযোগ ছিলই। মানুষের মনেও আন্দোলনের অভিপ্রায় নিয়ে প্রশ্ন জাগত না। আস্থা বজায় থাকত”, জানালেন এক আন্দোলনকারী এক চিকিৎসক।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বুধবারই কিন্তু সার্ভিস ডক্টরস ফোরাম, মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টার এবং নার্সেস ইউনিটি (সবকটিই এসইউসিআইয়ের সংগঠন) একত্রে সিবিআইয়ের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে সিজিও কমপ্লেক্স অভিযান করেছে। অথচ, এই কর্মসূচি ডক্টরস ফ্রন্টের ছাতার তলাতেই হওয়ার কথা ছিল। সূত্রের খবর, অতিবাম রাজনীতির দাদাগিরিতেই তা সম্ভব হয়নি। ওই চিকিৎসক বলেন, “অত্যন্ত উগ্র অভিমুখে এই আন্দোলন নিয়ে যাওয়ার একটা রাজনৈতিক চেষ্টা চলছে। তা আন্দোলনের উদ্দেশ্য নয়। ডাক্তারদের ফ্রন্ট ভাগ হয়ে গিয়েছে। সামনে সেটা দেখা যাচ্ছে না। কারণ, আন্দোলনের প্রতি আমাদের প্রত্যেকের আবেগ রয়েছে। দিনরাত কর্মসূচি নিয়ে তুলকালাম হচ্ছে অন্দরে।” সিপিআই(এমএল) লিবারেশন এর মধ্যে প্রেস বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, “ধর্মতলায় আন্দোলনরত জুনিয়ার ডাক্তারদের আমরণ অনশন এখনও অব্যাহত। এই অনশন আন্দোলন যে সমস্ত ন্যায্য দাবির ভিত্তিতে, রাজ্য সরকার সে সম্পর্কে অপরাধসম নির্লিপ্ততা ও অসংবেদী মনোভাব নিয়ে চলছে। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করার বদলে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সমগ্র ডাক্তার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে।” ফলত বার্তা পরিষ্কার যে, অতিবাম রাজনীতি আর নিজেকে এই আন্দোলনের আড়ালে রাখতে চাইছে না। আন্দোলনের অন্দরে তাই ক্ষোভের সঞ্চার ঘটছে। আমরণ অনশন কর্মসূচি ইস্যুতেও ঐকমত্য নেই। ধর্মতলার মঞ্চে সাতজন অনশনে বসেছেন। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে দু’জন। রক্তচাপের মতো শরীরের বেশ কিছু প্যারামিটার অনশনের ফলে কমতে থাকে। বুধবারের খবর, ধর্মতলায় একজনের শারীরিক অবস্থা খানিক উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধিরাই একথা জানিয়েছেন। অথচ আন্দোলনকারী মঞ্চের একটা বড় অংশের দাবি ছিল, তৃতীয় কোনও পক্ষ প্রত্যেকদিন অনশনকারীদের স্বাস্থ্যপরীক্ষার কাজটা করুক। “এতে সাধারণ এবং সরকারের মনে আন্দোলনকারীদের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় থাকত। নিজেরা এই কাজটা করলে স্বাস্থ্যপরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতেই পারে। অভিযোগ উঠতে পারে, এখানেও রাজনীতি চলছে। কাজেই স্বচ্ছতা প্রয়োজন”, বক্তব্য জনৈক চিকিৎসকের।




