মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশজুড়ে বারবার ফুটে উঠেছে ‘ঘোড়া কেনাবেচা’র নির্লজ্জ রাজনীতি। নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না হলেই অন্য দলের বিধায়কদের ছলে-বলে-কৌশলে নিজেদের দলে টেনে সরকার গড়েছে বিজেপি। যার পোশাকি নাম ‘অপারেশন লোটাস’। আর হরিয়ানায় জিতেও তাই তৃতীয় সরকার শপথ গ্রহণের আগেই শুরু হয়ে গেল সেই প্রক্রিয়া। সদ্য জয়ী তিন নির্দল বিধায়ককে ফলপ্রকাশের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই দলে টেনে নিল বিজেপি। হিসার আসনে নির্বাচিত হয়েছেন নির্দল প্রার্থী সাবিত্রী জিন্দাল। হারিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীকে। তাঁকেও সমর্থনের আবেদন করেছেন মোদী-শাহরা। সাবিত্রী জিন্দাল রাজিও হয়েছেন।
এখানেই শেষ নয়। জয়ের পরও অন্য দলের ঘরে বিজেপি কেন হানা দিচ্ছে? উঠছে প্রশ্ন।
এপ্রসঙ্গে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হরিয়ানার ৯০ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৪৬ আসন। সেখানে ৪৮টি আসন পেয়েছে বিজেপি। অর্থাৎ, তিনজন বিধায়ক কোনওসময় বিগড়ে গেলেই সরকার হয়ে পড়বে সংখ্যালঘু। এমনকী সরকারের পতন পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাই প্রমাদ গুনছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাছাড়া কংগ্রেস ভোটের লড়াইয়ে পরাস্ত হলেও, খুব পিছিয়ে নেই। রাহুল গান্ধীর দলের দখলে ৩৭টি আসন। অর্থাৎ কংগ্রেস আর ৯ জন বিধায়কের সমর্থন পেলেই সরকার গড়ে ফেলতে পারত।
এবারের ভোটে আইএনএলডি পেয়েছে একটি আসন। বাকি চারজন নির্দল। সেই চারজনের মধ্যে তিনজনকেই বিজেপি আগেভাগে নিজেদের পক্ষে নিয়ে এসেছে। ফলে বিজেপির আগামী সরকারের শক্তির সংখ্যা আপাতত ৫১। কিন্তু বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ম্যানেজারদের নামিয়ে দিয়েছে ‘অপারেশন লোটাস’-এর লক্ষ্যে। ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং বিপ্লব দেবের সঙ্গে দেখা করেন সাবিত্রী জিন্দাল। তারপরই বিজেপিকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি।




