বছরের পর বছর কেটে গেলেও মেলেনি কোনও সুরাহা। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলার প্রতি দুয়োরানিসুলভ আচরণ অব্যাহত রেখেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উঠেছে বঞ্চনার অভিযোগ। অতিসম্প্রতি কেন্দ্রের নতুন বাজেটে তা স্পষ্ট হয়েছে আরও একবার। একশো দিনের কাজের প্রকল্প বাবদ রাজ্যের টাকা এখনও বাকি। আড়াই বছর ধরে বাংলার একশো দিনের কাজের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। এবার সেই বঞ্চনার প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন বাংলার শ্রমিকরা। ১০০ দিনের কাজের টাকা আনতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন প্রায় ৫০০০ হাজার শ্রমিক। জবাব চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে বাংলার মানুষের সেই আবেদন তুলে ধরে নিশানা করা হল কেন্দ্রের মোদী সরকারকে। তৃণমূলের স্পষ্ট কথা, “ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন মানুষ। বাংলার বঞ্চনার প্রতিবাদে তাঁরা চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রীকে। এর পরেও লজ্জা হয় না প্রধানমন্ত্রীর! আড়াই বছর ধরে ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রেখে বাংলাকে বঞ্চিত করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত করেছেন। নিজে রাজ্যের ভাঁড়ার থেকে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি দিয়েছেন। তারপরও কেন্দ্র বকেয়া মেটায়নি। বাংলার শ্রমিকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কল্যাণে বকেয়া টাকা পেলেও বন্ধ হয়ে রয়েছে কাজ।”
উল্লেখ্য, অভিনব প্রতিবাদস্বরূপ শ্রমিকরা কেন্দ্রে প্রত্যেকে এক টাকা করে দান করেছেন। স্পষ্টতই তহবিলের ব্যবস্থা করার জন্য তাঁদের এই সিদ্ধান্ত। আর ৫০০০ শ্রমিকের সেই প্রতিবাদ মুখরিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পোস্টকার্ডে লেখা চিঠিতে। চিঠিতে তাঁরা উল্লেখ করেছেন, “কেন্দ্র যদি বাংলার জন্য এনআরইজিএ বাজেট প্রকাশ করতে না পারে, আমরা, শ্রমিকরা নিজেরাই অর্থ সংগ্রহ করব।” এনআরইজিএ সংগ্রাম মোর্চার পক্ষ থেকে শ্রমিকরা মোদীকে এই চিঠি লেখা হয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে বাংলায় একশো দিনের বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০২২-’২৩ আর্থিক বছর শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলায় এই প্রকল্পের অধীনে কোনও কাজ হয়নি। মেটানো হয়নি বকেয়াও। বাংলাকে বঞ্চিত রেখে অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ চালু রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, অন্ন সুরক্ষা অধিকার অভিযানের সঙ্গে যুক্ত গুজরাটের ২৫০০ কর্মীও পোস্টকার্ড পাঠিয়েছেন, বিহারের জন জাগরণ শক্তি সংগঠন কর্মীরাও শামিল হয়েছেন মোদী সরকারের বঞ্চনার বিরুদ্ধে। বিগত এক বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একশো দিনের কাজের বকেয়া থেকে শুরু করে আবাস যোজনা, গ্রামীণ সড়ক যোজনা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে বঞ্চনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। দিল্লীতে গিয়ে আন্দোলন করেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাজ্য ও কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে দু-দফা আলোচনাও হয়। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। তাই এবার শ্রমিকরা এগোলেন বৃহত্তর প্রতিবাদের পথে।




